সোনারপুরের জনরোষ নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী, নাম না করেই অভিষেককে তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সোনারপুরে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরাসরি কারও নাম না নিলেও পরোক্ষ বার্তায় বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি। সোমবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে আইন হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তৃণমূলকে ‘উঠে যাওয়া পার্টি’ বলে কটাক্ষ করেন।
আইন হাতে না নেওয়ার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পার্টি অফিস থেকে সরকারি ত্রাণ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে এবং তারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তবে এই পরিস্থিতিতে জনগণকে সংযত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন ও পুলিশ যা করার করবে, সাধারণ মানুষের আইন হাতে তুলে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে সোনারপুরের মারধরের ঘটনাকে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ফলতায় চতুর্থ হওয়া দলের কাউকে এত গুরুত্ব দেওয়ার বা জনরোষ দেখিয়ে বাড়তি প্রচার দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
তৃণমূলের অন্দরের বিবাদ দাবি বিজেপির
গত শনিবার সোনারপুরে দলের এক মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং তার জামা ও চশমা ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই হামলার সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মূলত তৃণমূলের ভেতরের ভাগ-বাটোয়ারার লড়াইয়ের ফল।
তদন্ত ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে মার খাওয়ার ঘটনা নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের দ্বারস্থ হওয়া ও আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অন্যদিকে তার দলের অন্দরেও সংকট তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি মমতা ও অভিষেকের ডাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই অনুপস্থিত ছিলেন, যার ফলে বৈঠকটি বাতিল করতে হয়।
ভবানী ভবনে হাজিরা এড়ালেন অভিষেক
এদিকে বিধানসভার সই বিতর্ক মামলায় সিআইডির তলব থাকা সত্ত্বেও সোমবার ভবানী ভবনে হাজিরা দেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শারীরিক অসুস্থতা, বিশেষ করে চোখ ও পাঁজরে ব্যথার কারণ দেখিয়ে তিনি সিআইডিকে চিঠি পাঠিয়েছেন এবং হাজিরা দেওয়ার জন্য পরবর্তী ১৫ দিনের সময় চেয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আইনি চাপ এবং অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরে বিধায়কদের দূরত্ব বজায় রাখা—সব মিলিয়ে প্রাক্তন শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে চরম রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংকটের মুখে পড়েছে।
