সোনারপুরে বেনজির বিক্ষোভের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাঙল চশমা ও ছিঁড়ল জামা! – এবেলা

সোনারপুরে বেনজির বিক্ষোভের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাঙল চশমা ও ছিঁড়ল জামা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সোনারপুরে নিহত এক দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও নজিরবিহীন হামলার মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট থেকে রওনা হয়ে কামালগাছি ও সোনারপুর এলাকায় পৌঁছাতেই তাঁকে লক্ষ্য করে কালো পতাকা প্রদর্শন, ‘চোর-চোর’ স্লোগান এবং ডিম ও ইট ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যেখানে তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতাকে রাস্তায় ফেলে মারধর ও ধাক্কাধাক্কি করা হয়, যার ফলে তাঁর পরিহিত জামা ছিঁড়ে যায় এবং চশমা ভেঙে যায়।

কামালগাছি থেকে সোনারপুর যেন রণক্ষেত্র

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, কামালগাছির ট্রাফিক সিগন্যালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় থামতেই একদল পুরুষ ও মহিলা আচমকা তাঁর গাড়ির দিকে এগিয়ে যান। প্রথমে কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুতই তা চরম উত্তেজনায় রূপ নেয়। এরপর সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়ির দিকে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীদের আরও বড় জমায়েত তৈরি হয়। সেখানে উপস্থিত কয়েকজনকে আগে থেকেই ডিম প্রস্তুত রাখার জন্য উসকানি দিতেও শোনা যায়।

পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে গাড়ি থেকে নেমে নিরাপত্তার খাতিরে মাথায় হেলমেট পরে বাইকে করে এগোনোর চেষ্টা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মারমুখী জনতার ভিড়ের কারণে তাঁর বাইকও আটকে যায়। এর পরপরই তাঁকে লক্ষ্য করে চারপাশ থেকে ‘মার, মার’ স্লোগান তুলে একের পর এক ডিম ও ইট ছোড়া হতে থাকে। নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে আড়াল করার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও বিক্ষোভকারীদের ধাক্কাধাক্কিতে দলীয় নেতার জামা ছিঁড়ে যায় এবং চোখের চশমাটি ভেঙে যায়।

নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগ ও পরবর্তী প্রভাব

কোনোক্রমে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়ে নিহত কর্মীর বাড়িতে পৌঁছান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন, এই সফরের বিষয়ে আগে থেকে তথ্য থাকা সত্ত্বেও ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা ছিল না। তিনি রাজ্যপাল ও হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই ঘটনাকে সরাসরি ‘খুনের চেষ্টা’ এবং গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে অভিহিত করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের একজন শীর্ষ স্তরের নেতার ওপর প্রকাশ্য রাস্তায় এই ধরনের আকস্মিক ও তীব্র হামলা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করল। এই ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত পুলিশি প্রহরার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত তিনি ওই স্থান ত্যাগ করবেন না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের চাপানউতোর তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *