‘সোনার খনি’র হদিশ ইডির হাতে, যেসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগে গ্রেফতার সুজিত বসু
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/11/sujit-bose-arrested-2026-05-11-21-30-15.jpg)
পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) জালে রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। সোমবার প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। মূলত ২০২৩ সালে অয়ন শীলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে যে নথি পাওয়া গিয়েছিল, ইডির দাবি অনুযায়ী সেটিই ছিল দুর্নীতির ‘সোনার খনি’। এরপর তদন্তের জাল যত বিস্তৃত হয়েছে, ততই সুজিত বসুর বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসতে শুরু করেছে।
রেস্তোরাঁর আড়ালে আর্থিক কারচুপি ও ওএমআর বিতর্ক
সুজিত বসুর গ্রেফতারির নেপথ্যে সবথেকে বড় ভূমিকা পালন করেছে তাঁর ছেলের মালিকানাধীন একটি রেস্তোরাঁ। সল্টলেক সেক্টর ফাইভে অবস্থিত ওই রেস্তোরাঁটিতে তল্লাশি চালিয়ে গোয়েন্দারা দেখেন, সেখানে কোনো কার্যকর রান্নাঘর বা খাবারের টেবিল নেই। তদন্তকারীদের দাবি, এই রেস্তোরাঁটি আসলে মন্ত্রীর কালো টাকা সাদা করার একটি মাধ্যম বা ‘শেল কো ম্পা নি’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এর পাশাপাশি দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ৩২৯ জন অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগের ক্ষেত্রেও সুজিত বসুর সরাসরি যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে ইডি। অভিযোগ উঠেছে যে, অয়ন শীলের সংস্থার মাধ্যমে ওএমআর শিট জালিয়াতি করে অযোগ্যদের চাকরি দেওয়া হয়েছিল।
প্রভাবশালীদের নির্দেশ ও আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ
সিবিআই ও ইডির পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ দমদম পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান পাঁচু রায়ের সঙ্গে সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র ছিল। জানা গিয়েছে, অনেক প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় শূন্য পেলেও এই প্রভাবশালী নেতাদের নির্দেশে তাঁদের নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তারাতলায় সুজিত ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর অফিস থেকে তিন কোটি টাকা উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি তদন্তে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি থেকে শুরু করে গাড়ির চালক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতিতে জালিয়াতি করা হয়েছে বলে গোয়েন্দাদের দাবি। এই সমস্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতেই প্রাক্তন মন্ত্রীকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
