সোনার বাংলা গড়ার চ্যালেঞ্জ, মানব উন্নয়ন সূচকে উন্নতির লক্ষ্যে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র – এবেলা

সোনার বাংলা গড়ার চ্যালেঞ্জ, মানব উন্নয়ন সূচকে উন্নতির লক্ষ্যে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উন্নয়ন সূচকে ফিরতে মরিয়া বাংলা, দিল্লির সাথে সমন্বয়ে নতুন ভোরের অপেক্ষায় রাজ্য

দীর্ঘ চার দশকের দীর্ঘস্থায়ী অবক্ষয় কাটিয়ে মানব উন্নয়ন সূচকে হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ১৯৮১ সালে মানব উন্নয়ন সূচকে দেশের মধ্যে অষ্টম স্থানে থাকা পশ্চিমবঙ্গ ২০২৩ সালের শেষে ২৭ তম স্থানে নেমে যাওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে সমন্বয় সাধন এবং নীতি আয়োগের মাধ্যমে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে।

হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে কেন্দ্রীয় উদ্যোগ

পশ্চিমবঙ্গের এই ক্রমাবনতির পেছনে প্রধানত স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার মানের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অবহেলাকে দায়ী করছেন নীতি নির্ধারণকারীরা। কেন্দ্রীয় আমলাদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, বিগত চার দশকে রাজনীতির প্রাধান্য দিতে গিয়ে রাজ্যের সামাজিক পরিকাঠামোর দিকে যথাযথ নজর দেওয়া হয়নি। রাজ্যের এই সংকট কাটাতে বর্তমানে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী কাজ চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে রাজ্যের উন্নয়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করেছেন। আগামী ১১ জুন নীতি আয়োগের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই বিষয়ে বিশেষ আলোচনা রাজ্যকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে এক মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।

উন্নয়নের নতুন মানদণ্ড ও প্রভাব

মানব উন্নয়ন সূচক বা এইচডিআই হলো মূলত স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার মানের একটি সম্মিলিত প্রতিফলন। রাষ্ট্রপুঞ্জের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানদণ্ড অনুযায়ী, এই তিনটি সূচকে পিছিয়ে থাকা সরাসরি জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বর্তমানে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ব্যাপক প্রসারের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধারের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা সফল হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। এখন দেখার বিষয়, সমন্বিত এই প্রচেষ্টায় পশ্চিমবঙ্গ আগামী দিনে দেশের সেরা রাজ্যগুলোর তালিকায় পুনরায় নিজেদের স্থান করে নিতে পারে কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *