সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক একলাফে ১৫ শতাংশ, অর্থনৈতিক সংকট রুখতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশের অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর তৈরি হওয়া চাপ সামাল দিতে সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক একধাক্কায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিল কেন্দ্র সরকার। এর আগে এই মূল্যবান ধাতু দুটির ওপর আমদানি শুল্ক ছিল ৬ শতাংশ। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিশ্বজনীন উদ্বেগ এবং ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার রেকর্ড পতনের আবহে এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে অন্তত এক বছরের জন্য সোনা কেনা এড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন, যার পরপরই এই সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলো।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও সরকারের কৌশল
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার জেরে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার মান সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে ৯৫.৭৫ টাকায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ এবং টাকার মান স্থিতিশীল করতে কেন্দ্র মূল্যবান ধাতু আমদানির ওপর কড়া রাশ টানার কৌশল নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সোনা ও রুপোর আমদানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ মৌলিক কাস্টমস শুল্কের পাশাপাশি ৫ শতাংশ কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস (AIDC) যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেয়ার বাজার থেকে আশানুরূপ রিটার্ন না মেলায় গত বছর ভারতে সোনার চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছিল। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকে গোল্ড এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে (ETFs) বিনিয়োগের পরিমাণ এক বছরে প্রায় ১৮৬ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ২০ মেট্রিক টনে পৌঁছায়। এই বিপুল চাহিদা ও আমদানি কমাতেই শুল্ক বৃদ্ধির পথ বেছে নিয়েছে সরকার।
বাজারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ও চোরাচালানের আশঙ্কা
হঠাৎ এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে সোনা ও রুপোর বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সম্পাদক সুরেন্দ্র মেহতা জানিয়েছেন, এমনিতেই বাজারে এই ধাতুগুলির দাম চড়া, তার ওপর নতুন করের বোঝা চাহিদাকে আরও কমিয়ে দেবে। এর আগে এপ্রিল মাসে ৩ শতাংশ আইজিএসটি (IGST) আরোপ এবং ব্যাঙ্কগুলির আমদানি সাময়িক বন্ধ থাকায় সোনা আমদানি প্রায় ৩০ বছরের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিল। তবে এই সিদ্ধান্তের একটি নেতিবাচক দিক নিয়েও সতর্ক করেছেন শিল্প মহলের কর্তারা। তাঁদের আশঙ্কা, করের হার এতটা বাড়লে দেশে আবারও অবৈধ পথে সোনা চোরাচালান বা কালোবাজারি বৃদ্ধি পেতে পারে, যা ২০২৪ সালের শুল্ক হ্রাসের পর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছিল।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি ভারতীয় অর্থনীতিতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে আগামী এক বছর বিয়ের কেনাকাটায় সোনা এড়ানো, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত করা এবং সম্ভব হলে পুনরায় বাড়ি থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার মতো মিতব্যয়ী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে প্রতিবেশী পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভারতে এখনও তার সরাসরি প্রভাব দেখা না দিলেও, আগামী দিনে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এই কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ অপরিহার্য ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
