সোনা কেনাই কি আপনার সেরা রক্ষা কবচ! আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও ভারতে কেন স্থিতিশীল জানুন আনন্দ শ্রীনিবাসনের বিশ্লেষণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতে সোনার বাজারে দামের অস্থিরতা নিয়ে যখন সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত, ঠিক তখনই বিশিষ্ট আর্থিক বিশ্লেষক আনন্দ শ্রীনিবাসন এক চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমলেও ভারতীয় মুদ্রার ক্রমাগত অবমূল্যায়নের কারণে দেশের বাজারে দাম খুব একটা কমছে না। রুপির মান কমতে থাকলে সোনাই হয়ে ওঠে প্রকৃত ‘রাজা’, যা বিনিয়োগকারীর সম্পদকে সুরক্ষা দেয়।
১৯৩০-এর সেই কালো অধ্যায় ও বর্তমানের শিক্ষা
শ্রীনিবাসন ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। ১৯৩০-এর দশকে আমেরিকায় ‘এক্সিকিউটিভ অর্ডার ৬১০২’ জারি করে নাগরিকদের ব্যক্তিগত সোনা রাখার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছিল। সেই সময় মার্কিন সরকার অতিরিক্ত সোনা বাজেয়াপ্ত করে এবং নিয়ম অমান্যকারীদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমান সময়েও গভীর অর্থনৈতিক সংকট বা যুদ্ধের পরিস্থিতিতে যেকোনো দেশের সরকার এমন পদক্ষেপ নিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কেন ডিজিটাল নয় বরং ভৌত সোনা জরুরি
আর্থিক এই বিশেষজ্ঞের মতে, ডিজিটাল সোনা বা ব্যাংকে রাখা সম্পদ সরকার এক ক্লিকেই জব্দ করতে পারে। তাই মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের উচিত ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা কাটাতে সঠিক বিল ও সার্টিফিকেটসহ ভৌত সোনা কেনা এবং তা নিজের কাছে রাখা। সরকার কখনোই চায় না মানুষের কাছে বিপুল পরিমাণ সোনা গচ্ছিত থাকুক, তাই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রেখে সম্পদ জমানোকেই তিনি বুদ্ধিমানের কাজ বলে অভিহিত করেছেন।
এক ঝলকে
- আন্তর্জাতিক বাজারে দর পতন সত্ত্বেও রুপির অবমূল্যায়নের কারণে ভারতে সোনার দাম বাড়ছে।
- ডিজিটাল সোনার বদলে সরাসরি ভৌত সোনা কিনে তা নিজের কাছে নিরাপদে রাখার পরামর্শ।
- ১৯৩০-এর দশকের আমেরিকার উদাহরণ টেনে ব্যক্তিগত সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ।
- সঠিক নথিপত্র বা বিলসহ সোনা কেনাকেই দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার একমাত্র পথ হিসেবে বর্ণনা।
