স্কুলজীবনের বন্ধু থেকে রাজনীতির ক্ষমতার অলিন্দে, কে এই নিখোঁজ সুমিত রায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে শনিবার ভোর পাঁচটায় পুলিশের হানা এবং দিনভর দফায় দফায় তল্লাশির ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। সাংসদের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে পুলিশ যখন পটুয়াপাড়ায় অভিষেকের বাসভবনে তালা ভেঙে প্রবেশ করে, তখন থেকেই রাজনৈতিক মহলে একটিই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— কে এই সুমিত রায়? কেনই বা হঠাৎ তাঁর খোঁজে খোদ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বাড়িতে পৌঁছে গেল পুলিশ প্রশাসন? ঘটনার পর থেকেই সুমিতের কোনো খোঁজ মিলছে না, তবে পুলিশের দাবি অনুযায়ী তাঁর ফোনের শেষ টাওয়ার লোকেশন অভিষেকের বাড়ির এলাকাতেই মিলেছে।
বন্ধুত্বের অতীত ও ক্ষমতার অলিন্দে সুমিত
সুমিত রায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক শুধুমাত্র পেশাদারিত্বের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এক অতীত। কলকাতায় স্কুলজীবন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তাঁরা একই ক্লাসে পড়াশোনা করেছেন। পরবর্তী সময়ে অভিষেক এমবিএ করতে দিল্লি গেলেও, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সুমিত কলকাতাতেই পড়াশোনা শেষ করেন। ২০১৩ সালে অভিষেক যখন সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি নিজের এই পুরনো সহপাঠীকে পাশে থাকার প্রস্তাব দেন। সেই থেকেই শুরু হয় সুমিতের রাজনৈতিক যাত্রা। সাংসদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত সুমিত বরাবরই অভিষেককে ‘স্যর’ বা ‘বস’ বলে সম্বোধন করতেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিষেকের সমস্ত কর্মসূচির সময়সূচি নির্ধারণ, সাক্ষাৎপ্রার্থীদের তালিকা তৈরি এবং যাবতীয় কাজের মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন এই সুমিতই, যার ফলে দলের অন্দরে তাঁর ক্ষমতা ও প্রভাব ছিল অপরিসীম।
আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
পুরনো কয়লা পাচার মামলায় এর আগে সুমিতের নাম জড়ালেও, বর্তমান পরিস্থিতির কারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। মূলত টাকার বিনিময়ে রাজনৈতিক দলের টিকিট পাইয়ে দেওয়া এবং বিপুল পরিমাণ আর্থিক তছরুপের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে শালবনী থানার পুলিশ এই তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। শনিবার সুমিতের নিজের বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি এবং তাঁর স্ত্রীর মালিকানাধীন পানশালাতেও তল্লাশি চালানো হয়। এই ঘটনার ফলে শাসক শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি ও ক্ষোভ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সাংসদের খাসতালুকে পুলিশের এই আকস্মিক প্রবেশ এবং ঘনিষ্ঠতম আধিকারিকের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ আগামী দিনে তৃণমূলের অন্দরমহলের সমীকরণ এবং সাংগঠনিক ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
