স্কুলে এবার বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’! সোমবার থেকেই নয়া নিয়ম কার্যকরের নির্দেশ শুভেন্দুর – এবেলা

স্কুলে এবার বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’! সোমবার থেকেই নয়া নিয়ম কার্যকরের নির্দেশ শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় এক বড়সড় পরিবর্তনের সূচনা করে সমস্ত সরকারি ও সরকার অনুমোদিত স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই নির্দেশ আগামী সোমবার থেকেই কার্যকর হতে চলেছে। সম্প্রতি বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান এবং দ্রুত নির্দেশিকা জারির ঘোষণা দেন।

ইতিমধ্যেই বিকাশ ভবনের পক্ষ থেকে রাজ্যের প্রতিটি জেলাশাসককে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের ডিরেক্টর ইমেল ও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে প্রতিটি বিদ্যালয়ে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। রাষ্ট্রগান হিসেবে পরিচিত বন্দে মাতরম এখন থেকে স্কুলের প্রাত্যহিক সমাবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে যাচ্ছে।

পরিবর্তিত নিয়ম ও নেপথ্যের কারণ

এতদিন পর্যন্ত রাজ্যের স্কুলগুলোতে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ গাওয়ার পর তৎকালীন রাজ্য সঙ্গীত ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গাওয়ার নিয়ম ছিল। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পূর্ববর্তী নির্দেশিকা অনুযায়ী এটি বাধ্যতামূলক ছিল। তবে নতুন নির্দেশিকায় বন্দে মাতরমকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ ও জাতীয় চেতনার প্রসার ঘটানো। ঐতিহাসিক এই গানটির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানোই প্রশাসনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

শিক্ষামহলে সংশয় ও সম্ভাব্য প্রভাব

নতুন এই নির্দেশিকা ঘিরে শিক্ষক ও স্কুল কর্তৃপক্ষের মধ্যে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রার্থনার সময় জাতীয় সঙ্গীত এবং বন্দে মাতরম—উভয়ই গাওয়া হবে কি না, কিংবা গাওয়ার ক্রম কী হবে, তা নিয়ে স্কুলগুলো দ্বিধায় রয়েছে। বিশেষ করে যেসব স্কুলের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী প্রার্থনা সঙ্গীত রয়েছে, সেখানে এই নিয়ম কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নিয়মটি দ্রুত কার্যকর করার ফলে স্কুলগুলোর দৈনন্দিন রুটিনে কিছু পরিবর্তন আসবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে শীঘ্রই একটি বিশদ নির্দেশিকা প্রকাশ করে এই সমস্ত অস্পষ্টতা দূর করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই নতুন নিয়ম প্রবর্তনের মাধ্যমে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *