হঠাৎ দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় সমুদ্র, তৈরি হয় রাস্তা! অবাক করা এই জায়গাটি কোথায় জানুন – এবেলা

হঠাৎ দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় সমুদ্র, তৈরি হয় রাস্তা! অবাক করা এই জায়গাটি কোথায় জানুন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রকৃতির রহস্যময় খেলায় মাঝেমধ্যেই থমকে যায় মানব মস্তিষ্ক। দক্ষিণ কোরিয়ার জিনডো দ্বীপে প্রতি বছর এমন এক ঘটনার সাক্ষী থাকেন হাজার হাজার মানুষ, যা দেখে মনে হতে পারে কোনো অলৌকিক দৃশ্য। সেখানে সমুদ্রের জলরাশি আচমকা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঝখানে বিস্তীর্ণ এক দীর্ঘ পথ তৈরি করে। স্থানীয়ভাবে ‘মিরাকল সি রোড’ নামে পরিচিত এই পথটি জিনডো এবং মোডো দ্বীপের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে, যা পর্যটকদের কাছে এক চরম রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা ও জোয়ার-ভাটার প্রভাব

প্রথম দেখায় একে অলৌকিক মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে নিখুঁত প্রাকৃতিক কারণ। মূলত জোয়ার-ভাটার বিশেষ প্রভাব এবং মহাকর্ষীয় শক্তির টানে সমুদ্রের জলস্তর যখন নির্দিষ্ট একটি স্তরের নিচে নেমে যায়, তখনই জলের তলায় থাকা মাটির রাস্তাটি ভেসে ওঠে। এটি কোনো স্থায়ী পথ নয়; বছরের নির্দিষ্ট সময়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য এই বিরল দৃশ্য দেখা যায়। প্রায় ২.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৪০ মিটার চওড়া এই রাস্তাটি দিয়ে অনায়াসেই এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে হেঁটে যাওয়া সম্ভব।

উৎসবের আমেজ ও পর্যটন সম্ভাবনা

এই বিরল মুহূর্তটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ‘জিনডো সি পারটিং ফেস্টিভ্যাল’ বা সমুদ্র বিভাজন উৎসবের আয়োজন করে। প্রতি বছর এপ্রিলের শেষ দিকে যখন এই পথ উন্মোচিত হয়, তখন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সমুদ্রের মাঝখান দিয়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা নিতে ভিড় জমান। এই সময়ে ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সমুদ্রের তলা থেকে ঝিনুক সংগ্রহের মতো মজাদার কর্মকাণ্ডে মেতে ওঠেন দর্শনার্থীরা। দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটন শিল্পে এই ঘটনা এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।

এক ঝলকে

  • দক্ষিণ কোরিয়ার জিনডো দ্বীপে প্রতি বছর সমুদ্র দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে প্রায় ২.৮ কিমি দীর্ঘ পথ তৈরি হয়।
  • জোয়ার-ভাটার প্রাকৃতিক কারণ এবং মহাকর্ষীয় টানের ফলে জল সরে গিয়ে এই রাস্তা দৃশ্যমান হয়।
  • বছরে মাত্র দুবার এই ঘটনা ঘটে এবং রাস্তাটি মাত্র এক ঘণ্টার জন্য স্থায়ী থাকে।
  • এই অলৌকিক দৃশ্য দেখতে বিশ্বজুড়ে পর্যটকরা ‘সি পারটিং ফেস্টিভ্যাল’-এ যোগ দেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *