হরমুজ প্রণালীতে সুরক্ষিত ভারতীয় জাহাজ, জ্বালানি সংকটে বড়সড় স্বস্তি দিচ্ছে ইরান

বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ভারতের দুশ্চিন্তা দূর করল তেহরান। বৃহস্পতিবার ভারতের ইরানি দূতাবাস সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় স্পষ্ট জানিয়েছে যে, রণকৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইরান ও ওমানই প্রধান ভূমিকা পালন করবে এবং ভারতীয় বন্ধুরা সেখানে সম্পূর্ণ ‘সুরক্ষিত হাতে’ রয়েছে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ প্রণালীটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথেই পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের উত্তেজনায় ইরান এই পথে কড়াকড়ি আরোপ করলেও ভারত, চীন ও রাশিয়ার মতো বন্ধু দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নয়াদিল্লির সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের ভিত্তিতেই এই নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই ভারতের পতাকাবাহী আটটি জাহাজ নিরাপদে এই বিপজ্জনক জলপথ অতিক্রম করে দেশে ফিরেছে। বিশেষ করে ৩১ মার্চ এবং ১ এপ্রিল ৯৪ হাজার টন গ্যাস নিয়ে ‘BW ELM’ ও ‘BW TYR’ নামে দুটি জাহাজ সফলভাবে বন্দরে পৌঁছেছে। জানা গেছে, ইরানি প্রশাসনের চিহ্নিতকরণের সুবিধার্থে ভারতীয় জাহাজগুলো কিছুটা ঘুরপথে চলাচল করছে। যদিও এখনও প্রায় ২০টি ভারতীয় জাহাজ ওই এলাকায় অবস্থান করছে, তবে সেগুলোতে দ্রুত এলপিজি বোঝাই করার কাজ চলছে।
ইরানের এই সরাসরি সহযোগিতার ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি বা রান্নার গ্যাসের সম্ভাব্য সংকট অনেকটাই এড়ানো যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। যেখানে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় অন্যান্য দেশ তটস্থ, সেখানে তেহরানের এই অভয়বাণী ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের সাধারণ মানুষও এই খবরে বড়সড় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
