হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের দাবি কি শুধুই ‘মনগড়া’? পাল্টা হুঙ্কার তেহরানের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের দাবির কড়া জবাব দিল ইরান
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণের রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, মার্কিন চাপে বাধ্য হয়ে ইরান কোনো প্রকার ফি বা শর্ত ছাড়াই হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সম্মত হয়েছে। তবে এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ‘সত্য ও মিথ্যের মিশ্রণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে স্পষ্ট জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো চুক্তিতে তেহরান স্বাক্ষর করেনি।
পাল্টা আক্রমণে ইরান
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালীতে বসানো মাইন অপসারণ বা নিষ্ক্রিয় করবে এবং কোনো অর্থনৈতিক লেনদেন ছাড়াই জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে। কিন্তু ইরানের সরকারি ও সামরিক সংশ্লিষ্ট মহলের ভাষ্যমতে, ‘কমিটমেন্ট ফর কমিটমেন্ট’ নামে যে খসড়া চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তাতে ট্রাম্পের বর্ণিত শর্তের কোনো অস্তিত্ব নেই। ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়ে তাদের নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে, যেখানে জাহাজের নিরাপত্তা তল্লাশি ও পরিষেবা প্রদানের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা অভ্যন্তরীণ রাজনীতির খাতিরে ‘মনগড়া জয়ের বয়ান’ হিসেবে দেখছে।
সংকটের প্রভাব ও প্রেক্ষাপট
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, ফলে এই রুটের ওপর যে কোনো বিধিনিষেধ বা অস্থিরতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়। ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং পাল্টাপাল্টি নৌ-অবরোধের ফলে বেশ কিছুদিন ধরেই এ অঞ্চলে অচলাবস্থা চলছিল। এখন ট্রাম্পের এই দাবি এবং ইরানের কঠোর অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের পারমাণবিক উপাদান ধ্বংসের দাবিকেও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান, যা দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান আস্থাহীনতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
