হলুদ-কালো সুইচবোর্ড মাত্র ৫ মিনিটে হবে নতুনের মতো চকচকে – এবেলা

হলুদ-কালো সুইচবোর্ড মাত্র ৫ মিনিটে হবে নতুনের মতো চকচকে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ঘরের দেওয়াল যতই দামি রঙে সাজানো হোক না কেন, সুইচবোর্ডে জমে থাকা তেল-মশলার ছোপ কিংবা আঙুলের কালো দাগ নিমেষেই পুরো বাড়ির সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। বিশেষ করে রান্নাঘরের বোর্ডে তেল চিটচিটে ভাব এবং বসার ঘরের সুইচে কালচে দাগ গৃহিণীদের জন্য এক বড় অস্বস্তির কারণ। অথচ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ভয়ে অনেকেই জল-সাবান দিয়ে এগুলো পরিষ্কার করতে সাহস পান না। তবে সাধারণ কিছু ঘরোয়া কৌশল জানা থাকলে মাত্র ২০ টাকার সামগ্রী ব্যবহার করেই পুরোনো ও নোংরা সুইচবোর্ডকে শোরুমের মতো ঝকঝকে করে তোলা সম্ভব।

যে কারণে সাধারণ জল-সাবানে দাগ ওঠে না

বাড়ির সুইচবোর্ডগুলো মূলত এবিএস (ABS) প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হয়। এই প্লাস্টিকের বিশেষত্ব হলো এটি বাতাস, রোদ, হাতের ঘাম এবং রান্নাঘরের তেলের ভাপ খুব দ্রুত শুষে নেয়। ফলে ধুলোবালি জমে এর ওপর একটি স্থায়ী কালচে আস্তরণ তৈরি হয়। সাধারণ জল-সাবান কেবল ওপরের ধুলোবালি দূর করতে পারে, কিন্তু প্লাস্টিকের ভেতরে ঢুকে যাওয়া তেল ও হলদে ভাব তুলতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। উল্টো সাবান ঘষলে প্লাস্টিকের গ্লসি ভাব নষ্ট হয়ে যায় এবং জল ভেতরে ঢুকে শর্ট সার্কিট হওয়ার তীব্র ঝুঁকি থাকে। এই দাগ দূর করতে মূলত প্রয়োজন সঠিক ডিগ্রিজার এবং হালকা অ্যাব্রেসিভ উপাদান।

পরিষ্কারের আগে জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা

সুইচবোর্ড পরিষ্কারের ক্ষেত্রে সৌন্দর্যের চেয়ে নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনা এড়াতে ৩টি নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। প্রথমত, শুধু বোর্ডের সুইচ বন্ধ করলেই হবে না, বাড়ির মেইন এমসিবি (MCB) বা মেইন সুইচ অবশ্যই অফ করতে হবে এবং টেস্টার দিয়ে পরীক্ষা করে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভেজা কাপড় সরাসরি ব্যবহার না করে প্রথমে শুকনো মাইক্রোফাইবার বা নরম কাপড় দিয়ে ধুলো ঝেড়ে নিতে হবে। তৃতীয়ত, কোনো লিকুইড বা তরল উপাদান সরাসরি বোর্ডে স্প্রে করা যাবে না; তা কাপড়ে বা তুলোয় নিয়ে ব্যবহার করতে হবে এবং সুইচের ফাঁকফোকরের জন্য কটন বাড ব্যবহার করা শ্রেয়।

সহজ ঘরোয়া হ্যাকস ও সম্ভাব্য প্রভাব

ঘরোয়া কিছু সহজলভ্য উপাদান ব্যবহার করে মাত্র ৫ মিনিটে সুইচবোর্ড পরিষ্কার করা সম্ভব। অর্ধেক চামচ বেকিং সোডা এবং সামান্য সাদা টুথপেস্টের মিশ্রণ তৈরি করে পুরোনো ব্রাশ দিয়ে বৃত্তাকার পদ্ধতিতে ঘষলে যেকোনো কঠিন হলদে দাগ ভ্যানিশ হয়ে যায়। রান্নাঘরের আঠালো তেলের জন্য সমপরিমাণ সাদা ভিনেগার ও জল মিশিয়ে কাপড়ের সাহায্যে মুছলে চমৎকার কাজ হয়। এমনকি সুইচের চারপাশের আঙুলের কালো দাগ দূর করতে কোনো তরল ছাড়াই সাধারণ পেন্সিল ইরেজার বা রবার দিয়ে ঘষলে দাগ উঠে যায়। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করা বোর্ডের ক্ষেত্রে এক ফোঁটা ডব্লিউডি-৪০ (WD-40) ব্যবহার করা যেতে পারে, যা বোর্ডকে নতুনের মতো উজ্জ্বল করে তোলে।

এই সহজ ও সাশ্রয়ী প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণের ফলে একদিকে যেমন দামি সুইচবোর্ড পরিবর্তনের খরচ বেঁচে যায়, অন্যদিকে ঘরের নান্দনিকতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে। পরিষ্কার করার পর বোর্ডের ওপর ট্রান্সপারেন্ট নেলপলিশের একটি পাতলা কোট বা কম দামি সুইচবোর্ড স্টিকার লাগিয়ে রাখলে দীর্ঘদিনের জন্য বোর্ডকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *