হারের পর শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করাই কি কাল হলো, দলীয় পদ খোয়ালেন দেবাংশু! – এবেলা

হারের পর শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করাই কি কাল হলো, দলীয় পদ খোয়ালেন দেবাংশু! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা চলছিল। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দলের সোশ্যাল মিডিয়া সেলের চেয়ারপারসন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যকে। তাঁর পরিবর্তে এই গুরুদায়িত্বে আনা হয়েছে উপাসনা চৌধুরীকে। মূলত নির্বাচনী পরাজয়ের পর জনসমক্ষে না আসা এবং দলের কঠিন সময়ে শীর্ষ নেতৃত্ব ও দলের নীতিকে নিশানা করে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করার জেরেই দেবাংশুর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিতর্কিত মন্তব্য ও ক্ষোভের নেপথ্য কারণ

চুঁচুড়া বিধানসভা আসনে বিদায়ী বিধায়কের বদলে দেবাংশুকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস, কিন্তু নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। দলের এই বিপর্যয়ের দিনে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের পাশে না দাঁড়িয়ে তিনি অন্তরালে চলে যান। পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে রাজ্য জুড়ে চলা দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে তৃণমূল নেতাদের গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে পোস্ট করেন দেবাংশু। এখানেই শেষ নয়, দলের শীর্ষ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া নিয়ে সরাসরি দলীয় নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। সঠিক সময়ে শক্ত হাতে পরিস্থিতি সামলাতে না পারার জন্য দলকে দায়ী করার পাশাপাশি বিজেপি বিধায়ক তথা শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের প্রশংসাও শোনা যায় তাঁর মুখে। এই লাগাতার শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দলবিরোধী অবস্থানই তাঁর পদ হারানোর প্রধান কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

দলে বড়সড় রদবদল ও সম্ভাব্য প্রভাব

তৃণমূলের পরিষদীয় ও সংসদীয় দলে বড়সড় ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে দলের সমস্ত কমিটি ভেঙে নতুন করে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে শীর্ষ নেতৃত্ব। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ এবং মালা রায়ের মতো হেভিওয়েট নেতারা বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখানোর পর একযোগে একাধিক পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সায়নী ঘোষের জায়গায় অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়ের জায়গায় আলিফা আহমেদ এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থলে কুণাল ঘোষকে উত্তর কলকাতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেবাংশুর মতো পরিচিত মুখকে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে দল স্পষ্ট বার্তা দিল যে, চরম সংকটের মুহূর্তে দলের অন্দরে কোনো ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গ বা নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করা বরদাস্ত করা হবে না। এই রদবদলের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস যেমন একদিকে ক্ষুব্ধ ও বিতর্কিত নেতাদের ডানা ছাঁটার চেষ্টা করছে, তেমনই নতুন মুখের ওপর ভরসা করে দলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং পুনরায় সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *