হাসপাতালের ঘরেই বসছে মদ-গাঁজার আসর! সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের হাল দেখে আঁতকে উঠবেন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
শান্তিপুর: একটা সময়ে যেখানে রোগীদের জীবন বাঁচাতে স্যালাইনের বোতল আর ওষুধ পাওয়া যেত, আজ সেখানেই দিনে-দুপুরে বসছে মদ ও গাঁজার আসর! নদিয়ার শান্তিপুর ব্লকের আড়বান্দি-১ গ্রামের চাঁদড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এই ভয়ঙ্কর ছবি সামনে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
প্রায় ২০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বিশাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের পরিত্যক্ত ঘরগুলি এখন ‘নেশাগ্রস্ত’ যুবকদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে মদের বোতল, গাঁজার কলকে ও হুক্কা। শুধু তাই নয়, জানলা-দরজাহীন ঘরগুলির কয়েকটি এখন পরিণত হয়েছে গোয়ালঘরে। অথচ বছর দশেক আগেও ৩০টি শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ছিল এলাকার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসা।
আজ বিজেপির একটি স্বচ্ছতা অভিযান চলাকালীন এই পরিত্যক্ত ঘরগুলি থেকে বিপুল পরিমাণ মদের বোতল ও নেশার সামগ্রী উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা গৌরাঙ্গ দেবনাথ বলেন, “এলাকার ছেলেরাই এখানে নেশা করতে আসে। পুলিশি পাহারা থাকলে এই অসামাজিক কাজ বন্ধ হতো।” শান্তিপুরের বিজেপি বিধায়ক স্বপনকুমার দাস একে “নরক অবস্থা” বলে কটাক্ষ করেছেন।
নিরাপত্তাহীনতায় মহিলা কর্মীরা: সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই চত্বরেই একটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র চলে, যেখানে গর্ভবতী মায়েদের টিকা ও স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়। কর্মরত স্টাফ নার্স থেকে শুরু করে সাফাইকর্মী—এখানে প্রায় সকলেই মহিলা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘আরজি কর’ কাণ্ডের পরও প্রশাসনের ঘুম ভাঙেনি। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা গর্ভবতী মহিলা ও নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে।
এই বিষয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার অমিতকুমার মজুমদার জানান, সকাল থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত বহির্বিভাগের পরিষেবা সচল থাকে, তবে চত্বরে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ হওয়া জরুরি। অন্যদিকে, শান্তিপুরের ব্লক মেডিক্যাল অফিসার পূজা মৈত্র জানিয়েছেন যে, এই প্রাথমিক ও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামগ্রিক পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
