হাসপাতালের বিছানায় আগুনে পোড়া কনে, আজীবন পাশে থাকার অনন্য শপথ নিয়ে সিঁদুরদান যুবকের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কানপুরের জগন্নাথপুর গ্রামে এক হৃদয়স্পর্শী ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল চিকিৎসাধীন হাসপাতাল কক্ষ। গায়েহলুদের আনন্দঘন মুহূর্তে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর দগ্ধ হন হবু কনে শ্বেতা। তবে এই ভয়াবহ বিপর্যয়ও দমাতে পারেনি তাঁর হবু বরের ভালোবাসাকে। সমস্ত সামাজিক জাঁকজমক উপেক্ষা করে হাসপাতালের ওয়ার্ডেই চিকিৎসাধীন কনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে আজীবন পাশে থাকার শপথ নিলেন এক তরুণ। সমাজমাধ্যমে এই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই প্রশংসায় ভাসছেন ওই যুবক।
আনন্দ উৎসবের মাঝে আকস্মিক সিলিন্ডার বিস্ফোরণ
স্থানীয় পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২২ বছর বয়সি শ্বেতার বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল পুরোদমে। বুধবার বিকেলে কনের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিতে গায়েহলুদের অনুষ্ঠান চলাকালীন নৈশভোজের রান্নার জায়গায় হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডার লিক করে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া আগুন নেভাতে গিয়ে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। এই বিশৃঙ্খলার মাঝে ফুটন্ত তেলভর্তি একটি পাত্র উল্টে যাওয়ায় আগুনের তীব্রতা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। দুর্ঘটনায় কনে শ্বেতা, তাঁর বাবা, ভাই ও ঠাকুমা-সহ মোট ১১ জন গুরুতর দগ্ধ হন। দমকল ও পুলিশের সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কানপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিপর্যয় কাটিয়ে ভালোবাসার জয় ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব
কনের শারীরিক অবস্থা এবং বিয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন দুই পরিবার চরম দুশ্চিন্তায়, ঠিক তখনই দেবদূতের মতো এগিয়ে আসেন হবু বর। শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শ্বেতাকে একা না ফেলে, এখনই তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকদের আন্তরিক সহযোগিতায় ওয়ার্ডের ভেতরেই ফুল দিয়ে একটি প্রতীকী মণ্ডপ তৈরি করা হয়। রোগীর পোশাকের ওপর লাল ওড়না জড়ানো শ্বেতার সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে মালাবদল সম্পন্ন করেন ওই তরুণ।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এই ঘটনা কেবল একটি আইনি বা সামাজিক বন্ধন নয়, বরং নারীর প্রতি দায়বদ্ধতা এবং চরম সংকটে পাশে দাঁড়ানোর এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। রূপ বা বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে মানসিক আত্মিক বন্ধন যে অনেক বেশি শক্তিশালী, এই যুগল তা প্রমাণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর নেটাগরিকরা এটিকে ২০০৬ সালের বিখ্যাত বলিউড চলচ্চিত্র ‘বিবাহ’-এর বাস্তব রূপ বলে অভিহিত করেছেন এবং নবদম্পতির সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
