হুগলির জয়জয়কার! জিআই ট্যাগ পেল বেগমপুরের শাড়ি থেকে চন্দননগরের জলভরা – এবেলা

হুগলির জয়জয়কার! জিআই ট্যাগ পেল বেগমপুরের শাড়ি থেকে চন্দননগরের জলভরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

হুগলি: বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে নয়া পালক। দীর্ঘ আইনি লড়াই ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (জিআই) ট্যাগ পেল হুগলি জেলার চারটি প্রাচীন শিল্প ও খাদ্য। স্বীকৃতি পেল চন্দননগরের জলভরা সন্দেশ, বলাগড়ের নৌকা শিল্প, জনাইয়ের মনোহরা এবং বেগমপুরের শাড়ি।

কী এই চারটি ঐতিহ্য?

  • চন্দননগরের জলভরা সন্দেশ: বাঙালির আবেগ ও ঐতিহ্যের অপর নাম। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে আবেদনের পর চার বছর বাদে এই স্বীকৃতি পেল। সম্প্রতি তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছিল এই বিশেষ মিষ্টি।
  • বলাগড়ের নৌকা শিল্প: শতবর্ষী এই শিল্পে আগে কাঠের সঙ্গে কাঠ জুড়ে নৌকা তৈরির পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। সারা ভারতের নৌকা শিল্পের তুলনায় বলাগড়ের কারিগরি সম্পূর্ণ আলাদা।
  • জনাইয়ের মনোহরা: জমিদার আমল থেকে চলে আসা চিনির কোটিং দেওয়া এই মিষ্টির স্থায়িত্ব ও স্বাদের জন্য প্রসিদ্ধ। দশ জন কারিগরের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় এল এই স্বীকৃতি।
  • বেগমপুরের শাড়ি: তাঁতশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বেগমপুরের শাড়ি আগেই সমাদৃত, এবার পেল সরকারি জিআই সিলমোহর।

শিল্পীদের উচ্ছ্বাস ও দাবি:

এই স্বীকৃতিতে খুশি কারিগর ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে বলাগড় নৌকা শিল্প সমিতির সম্পাদক উৎপল বারিক জানিয়েছেন, স্বীকৃতি পেলেও মৎস্যজীবীদের আর্থিক অবস্থার কারণে কারিগররা এখনও নৌকার সঠিক দাম পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, চন্দননগরের ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে জলভরা সন্দেশকে ছড়িয়ে দিতে সরকারের কাছে গবেষণামূলক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

এই স্বীকৃতির মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলার হুগলির এই চার শিল্প এখন নিজস্ব পরিচয় ও সুরক্ষায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *