হু হু করে কমছে রুপোর দাম! এক বছরে অর্জিত সমস্ত মুনাফা হারিয়ে বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিগত এক বছর ধরে লাগামহীনভাবে বাড়ার পর আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে কার্যত ধস নেমেছে রুপোর দামে। ২০১৬ সালের শুরু থেকে রুপো যে পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছিল, গত কয়েকদিনে তার পুরোটাই ধুলোয় মিশে গিয়েছে। জানুয়ারি মাসের শেষে যে রুপোর দাম কেজি প্রতি প্রায় ৪.৩৯ লক্ষ টাকায় পৌঁছে রেকর্ড গড়েছিল, এপ্রিলের শেষে এসে তা ২.৩৮ লক্ষ থেকে ২.৪০ লক্ষ টাকার ঘরে ঘোরাফেরা করছে। অর্থাৎ, শিখর থেকে কেজি প্রতি প্রায় ২ লক্ষ টাকা সস্তা হয়েছে এই মূল্যবান ধাতু।
দরপতনের নেপথ্যে মূল কারণ
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব বাজারে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং ফেডারেল রিজার্ভের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এই পতনের নেপথ্যে কাজ করেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে রুপো কেনা আগের তুলনায় ব্যয়বহুল হয়ে ওঠায় চাহিদাতেও টান পড়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখন ‘সেফ হেভেন’ বা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে রুপোর ওপর থেকে নজর সরিয়ে নিচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে এর দামে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও শিল্পে প্রভাব
সাময়িকভাবে দাম কমলেও দীর্ঘমেয়াদে রুপোর বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা প্রবল। বর্তমানে সৌর প্যানেল, বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) এবং এআই ডেটা সেন্টারগুলোতে রুপোর ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে এই ধাতুর সরবরাহে ঘাটতি থাকায় ভবিষ্যতে শিল্পক্ষেত্রে এর চাহিদা দামকে আবারও উর্ধ্বমুখী করতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে খুচরো বাজারে দাম কমায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিলেও মাথায় রাখতে হবে যে এর সঙ্গে ৩ শতাংশ জিএসটি এবং গয়নার মজুরি যুক্ত হবে।
এক ঝলকে
- রুপোর দামে রেকর্ড পতন ঘটে কেজি প্রতি প্রায় ২ লক্ষ টাকা কমেছে।
- সর্বোচ্চ ৪.৩৯ লক্ষ টাকা থেকে দাম নেমে বর্তমানে ২.৪০ লক্ষ টাকার আশেপাশে অবস্থান করছে।
- ডলারের উত্থান এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনই এই দরপতনের প্রধান কারণ।
- শিল্পক্ষেত্রে চাহিদা ও জোগানের ঘাটতির কারণে ভবিষ্যতে দাম আবারও বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
