‘হে বীর তোমায় মিস করছি, এসো’, ফলতায় অভিষেককে খোঁচা শমীকের, সংখ্যালঘুদের বিশেষ বার্তা বিজেপির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে। লোকসভা ভোটের নিরিখে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে এবার আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনে এই ফলতা থেকেই বিপুল ভোটের লিড পেয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফলতার নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে হুঙ্কার দেওয়ার পর, রবিবার ফলতায় প্রচার চালাতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির ভাষায় কটাক্ষ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
অভিষেককে শমীকের কটাক্ষ ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
ফলতার তৃণমূল প্রার্থী তথা অভিষেক-ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির খানের সমর্থনে শাসকদল কেন জোরালো প্রচার করছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শমীক ভট্টাচার্য। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশ এবং কনভয় নেই বলেই তৃণমূলের নেতাদের আর মাঠে দেখা যাচ্ছে না।” কটাক্ষের সুরে তিনি অভিষেককে ফলতায় প্রচারে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “হে বীর তোমার আসন পূর্ণ করো, তোমাকে আমরা মিস করছি।” বিজেপির পক্ষ থেকে তৃণমূলকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে তারা চাইলে নির্ভয়ে মিছিল বা সভা করতে পারে, পদ্মশিবির কোনও আক্রমণ করবে না। একই সঙ্গে শমীক দাবি করেন, রাজ্যে তৃণমূলের ফেরার আর কোনও সম্ভাবনা নেই।
সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক ও কর্মসংস্থানের বার্তা
ফলতার নির্বাচনী সভা থেকে রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি স্পষ্ট জানান, সংখ্যালঘু সমাজের সঙ্গে বিজেপির কোনও বিরোধ নেই এবং দল তাঁদের পাশে রয়েছে। তবে একই সঙ্গে স্থানীয় স্তরে দুষ্কৃতী সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত নেতাদের হাত থেকে সংখ্যালঘুদের দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়ে শমীক জানান, আগামী দিনে বিজেপি সরকার এই জেলায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে, যাতে রুজির টানে কাউকে ভিনরাজ্যে যেতে না হয়।
তৃণমূলের অন্দরে প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা ভোটে ফলতা থেকে ১ লক্ষের বেশি লিড পাওয়া তৃণমূল এবার রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর মানসিকভাবে কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে। বিজেপির এই আক্রমণের মূল লক্ষ্য হলো তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে ফাটল ধরানো। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডাকে ১ লক্ষ ভোটে জেতানোর লক্ষ্যমাত্রা স্থির করলেও, শমীক ভট্টাচার্য সেই ব্যবধান সোয়া এক লক্ষে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এই উপনির্বাচন এখন দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিজেপির প্রভাব বিস্তারের এবং তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষার এক বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
