হোস্টেলে ৫ বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতন ও নৃশংস খুন
বিহারের জাহানাবাদে একটি আবাসিক স্কুলের হোস্টেলে পাঁচ বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতন ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে। তদন্তে জানা গেছে, স্কুলের ক্যান্টিনের নিরাপত্তারক্ষীই এই পাশবিক ঘটনার মূল হোতা। অভিযুক্ত ৪৬ বছর বয়সী মুকেশ ওরফে সুধামাকে ইতিমিধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র।
আবাসিক স্কুলের নিরাপত্তায় বড়সড় গলদ
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার রাতে অভিযুক্ত মুকেশ কৌশলে শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর অমানুষিক যৌন নির্যাতন চালানো হয়। নিজের অপরাধ গোপন রাখতে এবং ধরা পড়ার ভয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির গলা কেটে তাকে হত্যা করে। এরপর মরদেহটি হোস্টেলের সিঁড়িতে ফেলে রেখে সে গা ঢাকা দেয়। এই ঘটনা আবাসিক স্কুলগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ঘটনার বীভৎসতা ও পরিবারের হাহাকার
পরদিন সকালে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ শিশুটির বাবাকে ফোন করে জানায় যে, তার ছেলেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে হাসপাতালে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান। শিশুটির গলা কাটা ছিল, যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ছিল আঘাতের চিহ্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পটনার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মনস্তাত্ত্বিক সংকট ও অপরাধের প্রেক্ষাপট
জাহানাবাদ জেলার পুলিশ সুপার অপ্রজিত লোহান জানিয়েছেন, অভিযুক্ত মুকেশের পারিবারিক জীবনে দীর্ঘদিনের অশান্তি ছিল। অনেক বছর আগে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। তদন্তে উঠে এসেছে যে, হোস্টেলের শিশুরা প্রায়ই তাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করত, যা তার মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও মানসিক বিকৃতি তৈরি করেছিল। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে।
আইনি ব্যবস্থা ও পুলিশের তৎপরতা
পুলিশ এই ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা সহ:
- খুন ও ধর্ষণের মামলা রুজু করা হয়েছে।
- যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা আইন (POCSO) প্রয়োগ করা হয়েছে।
- তদন্তে অসহযোগিতা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে স্কুল কর্তৃপক্ষকেও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হতে পারে।
এক ঝলকে
- স্থান: জাহানাবাদ, বিহার।
- শিকার: ৫ বছর বয়সী এক আবাসিক ছাত্র।
- অভিযুক্ত: ক্যান্টিন নিরাপত্তারক্ষী মুকেশ ওরফে সুধামা (৪৬)।
- অপরাধ: যৌন নির্যাতন ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা।
- বর্তমান অবস্থা: অভিযুক্ত গ্রেফতার এবং অপরাধের অস্ত্র উদ্ধার।
