১০ জন্মেও ডায়মন্ড হারবার মডেলে দাঁত ফোটানো আসাম্ভব! ফলতায় পুনর্নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

১০ জন্মেও ডায়মন্ড হারবার মডেলে দাঁত ফোটানো অসম্ভব! ফলতায় পুনর্নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে অশান্তি ও কারচুপির অভিযোগ তুলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথেই ভোট বাতিলের ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২১ মে এই কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ এবং ২৪ মে ফলাফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কমিশন। কমিশনের এই পদক্ষেপকে সরাসরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কেন্দ্র ও কমিশনকে সরাসরি লড়াইয়ের ডাক

কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পরেই সমাজমাধ্যমে সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত কড়া ভাষায় তিনি বিজেপি ও কমিশনকে বিঁধে লিখেছেন, ‘১০ জন্ম চেষ্টা করেও এই বাংলা-বিরোধী গুজরাতি লবি এবং তাদের দালাল জ্ঞানেশ কুমার ডায়মন্ড হারবার মডেলে দাঁত ফোটাতে পারবে না।’ কেন্দ্র সরকারকে খোলা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, সাহস থাকলে দিল্লির কোনও ‘গডফাদার’ ফলতায় এসে লড়াই করে দেখান। তাঁর দাবি, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনসমর্থন টলানো আসাম্ভব এবং ফলতার মানুষ ব্যালটেই এর উপযুক্ত জবাব দেবেন।

কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও কুণাল ঘোষের তোপ

ফলতায় পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষও। ভোটের তিন দিন পর কেন এই তৎপরতা, তা নিয়ে ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, “এত কো ম্পা নি আধা সেনা ও পর্যবেক্ষক থাকা সত্ত্বেও যদি ভোটের দিন রিগিং না ধরা পড়ে, তবে তা কমিশনেরই ব্যর্থতা।” একই সঙ্গে তিনি ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মাকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার দাবি জানান। কুণাল ঘোষের দাবি, যখন ফলতায় পুনর্নির্বাচন হবে, ততক্ষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৩০-এর বেশি আসন নিয়ে পুনরায় সরকার গঠন করে ফেলবেন।

ফলতার লড়াই ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের দিন ইভিএমের বোতামে আঠা লাগানো এবং বুথ দখলের মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এলাকায় ধরপাকড় শুরু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৪ মে রাজ্যের অন্যান্য সব আসনের ফল প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার পর ২১ মে ফলতার ভোট এক ভিন্ন মাত্রা নেবে। এই পুনর্নির্বাচন একদিকে যেমন কমিশনের জন্য নিজেদের নিরপেক্ষতা প্রমাণের পরীক্ষা, অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য তাঁর ‘মডেল’ অক্ষুণ্ণ রাখার লড়াই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *