১২টায় অফিস ৪টেয় বাড়ির দিন শেষ, সরকারি কর্মীদের জন্য রাইটার্স থেকে কড়া নির্দেশিকা

রাজ্যের সরকারি কর্মসংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে এবার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করল নতুন বিজেপি সরকার। মঙ্গলবার রাইটার্সের বিচার বিভাগীয় দফতর থেকে জারি করা এক বিশেষ নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অফিসে ঢোকা এবং বেরোনোর নির্দিষ্ট সময়সীমা এখন থেকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। নব্য সরকারের এই পদক্ষেপে দীর্ঘদিনের ঢিলেঢালা কর্মপদ্ধতিতে ইতি টানার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ফেরানো হলো দুই দশক আগের নিয়ম
প্রশাসনিক পরিষেবা গতিশীল করতে ২০০০ সালের অর্থ দফতরের একটি পুরোনো নির্দেশিকাকে পুনরায় কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক কাজের দিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে সরকারি কর্মীদের অবশ্যই হাজিরা দিতে হবে। একইভাবে, বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে কোনোভাবেই অফিস ত্যাগ করা যাবে না। মূলত ‘জনগণের সরকার’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশাসনের সময়ানুবর্তিতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অব্যাহতি পেলেন ২৩২ জন পুনর্নিযুক্ত আধিকারিক
সময়ানুবর্তিতার পাশাপাশি প্রশাসনে বড়সড় রদবদল ঘটিয়েছে নবান্ন। গত এক দশকে ৬০ বছর বয়স হওয়ার পর যে সমস্ত আধিকারিককে পূর্বতন সরকার পুনরায় নিয়োগ করেছিল, তাঁদের অবিলম্বে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত ২৩২ জনের এই তালিকায় অর্থ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভূমি দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের আইএএস, আইপিএস এবং ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকরা রয়েছেন। এই গণ-ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্তরে তারুণ্য ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সরকার এখন থেকে মানুষের প্রয়োজনে পরিচালিত হবে। কাজের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক আনুগত্য নয়, বরং জনস্বার্থে পেশাদারিত্ব বজায় রাখতেই এই কড়া দাওয়াই প্রয়োগ করা হয়েছে। রাইটার্স বিল্ডিং থেকে আসা এই জোড়া নির্দেশের ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক জট কতটা দ্রুত কাটে, এখন সেটাই দেখার।
