১৫০০ পাতার চার্জশিটে কোণঠাসা অভিযুক্তরা, নাসিক টিসিএস কাণ্ডে সিটের বড় পদক্ষেপ – এবেলা

১৫০০ পাতার চার্জশিটে কোণঠাসা অভিযুক্তরা, নাসিক টিসিএস কাণ্ডে সিটের বড় পদক্ষেপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টিসিএস (TCS)-এর নাসিক শাখায় ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর যৌন হেনস্থা, ব্ল্যাকমেল এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ মামলায় বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। শুক্রবার এই ঘটনার তদন্তে নেমে সেশন কোর্টে প্রায় ১৫০০ পাতার প্রথম চার্জশিট জমা দিয়েছে সিট। এই সুবিশাল চার্জশিটে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক অকাট্য ডিজিটাল ও ফরেনসিক তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। নাসিকের দেওলালি ক্যাম্প থানায় দায়ের হওয়া একটি নির্দিষ্ট মামলার পরিপ্রক্ষিতেই এই চার্জশিটটি দাখিল করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে দফায় দফায় মোট ৯টি এফআইআর রুজু হয়েছিল, যার ভিত্তিতে পুলিশ এখনও পর্যন্ত মোট আটজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।

শুক্রবার যে চারজন মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সেশন কোর্টে চার্জশিট জমা পড়েছে, তাঁরা হলেন দানিশ এজাজ শেখ, তৌসিফ বিলাল আত্তার, নিদা এজাজ খান এবং মতিন মজিদ প্যাটেল। ধৃতদের মধ্যে মতিন মজিদ প্যাটেল হলেন এআইএমআইএম (AIMIM)-এর একজন কর্পোরেটর। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, মূল মামলার অন্যতম অভিযুক্ত নিদা খান যখন গ্রেফতারি এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছিলেন, তখন মতিন তাঁকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে আড়াল করেছিলেন।

গুরুতর ধারার প্রয়োগ ও ডিজিটাল প্রমাণ

১৫০০ পাতার এই চার্জশিটে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন বা SC/ST Act-এর একাধিক গুরুতর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ধর্ষণ, ক্ষমতাবান পদে থেকে যৌন হেনস্থা, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে যৌন সংসর্গ, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা এবং অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়ার মতো ধারা। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, ধৃতদের বিরুদ্ধে আদালতে অকাট্য ডিজিটাল প্রমাণ জমা দেওয়া হয়েছে। চার্জশিটের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নির্যাতিতা এবং মূল অভিযুক্তদের মধ্যে হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট ও ইমেলের আদানপ্রদান, যা থেকে স্পষ্ট কীভাবে ওই তরুণীকে দিনের পর দিন মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে এবং ধর্মান্তকরণের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও কর্পোরেট পদক্ষেপ

এই কর্পোরেট সংস্থায় কর্মরত আটজন তরুণী ও মহিলা কর্মী প্রথমে নাসিকের ওই আইটি ইউনিটের ভেতরের অন্ধকার দিকটি সামনে আনেন। কর্মক্ষেত্রে চূড়ান্ত মানসিক ও যৌন হেনস্থা এবং নির্দিষ্ট একটি ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার জন্য লাগাতার চাপ সৃষ্টির অভিযোগ আসতেই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।

আইটি সেক্টরের প্রথম সারির সংস্থার অন্দরে এমন নজিরবিহীন কেলেঙ্কারির খবর চাউর হতেই দেশজুড়ে আলোড়ন পড়ে যায়। ঘটনার পরেই টিসিএস কর্তৃপক্ষের তরফে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ ঘোষণা করে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়। অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর নাসিক অফিসের যে সমস্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের তৎক্ষণাৎ চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে সংস্থা। আপাতত প্রথম এই চার্জশিট পেশের পর আদালতের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *