১৬ অগাস্ট থেকে রাজ্যে শুরু হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রথম দফার জনগণনা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হতে চলেছে দেশের ১৬ তম সাধারণ জনগণনার প্রথম দফার কাজ। আগামী ১৬ অগাস্ট থেকে শুরু হয়ে এই প্রক্রিয়া আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। মূলত ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি বিশেষ রোডম্যাপের সাহায্যে এবারের ‘হাউস লিস্টিং’ বা আবাসিক বাড়িগুলোর তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করা হবে। করোনা মহামারির কারণে ২০২১ সালের নির্ধারিত দফার কাজ পিছিয়ে যাওয়ার পর, ২০২৬ সালের এই সময়োপযোগী প্রশাসনিক পদক্ষেপটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফার এই তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পরিবারের বাসস্থান ও জীবনযাত্রার মান সম্পর্কিত নিখুঁত রূপরেখা তুলে ধরা হবে। গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভবনের নম্বর, দেওয়াল ও ছাদের নির্মাণ সামগ্রী এবং পরিকাঠামোর বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখবেন। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ, পানীয় জলের উৎস, শৌচাগারের সুবিধা, মোটর গাড়ি কিংবা বাইকের মালিকানা এবং মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মতো আধুনিক নাগরিক জীবনযাত্রার সমস্ত সূচক এই শুমারিতে নথিভুক্ত করা হবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ত্রুটিহীন করতে ‘HLO’ নামক একটি সুরক্ষিত মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, নাগরিকরা চাইলে ১ থেকে ১৫ অগাস্টের মধ্যে নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালে গিয়ে ‘Self Enumeration’ বা স্ব-গণনা পদ্ধতির মাধ্যমে নিজেদের তথ্য নিজেরাই অনলাইনে আপলোড করার সুযোগ পাবেন।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও আধুনিক প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো
বিপুল পরিমাণ এই তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও নিখুঁত করতে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। নবান্নে ইতিমধ্যেই প্রিন্সিপাল সেন্সাস অফিসারদের প্রশিক্ষণ শিবির শুরু হয়েছে, যেখানে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থেকে কাজের তদারকি করছেন। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সুবিধার্থে স্যাটেলাইট সহায়ক ‘House Listing Block Creator Portal’ এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের জন্য ‘CMMS Portal’ ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, রাজ্যে এই বিশাল যজ্ঞ সুসম্পন্ন করতে প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার এনুমারেটার এবং বিপুল সংখ্যক সুপারভাইজারের প্রয়োজন হবে। এই কাজে বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও) এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন।
তথ্য বিশ্লেষণ ও দূরগামী প্রভাব
canাবিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই জনগণনা পরিচালনার ফলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। কাগজবিহীন ডিজিটাল ডেটা সরাসরি মূল সার্ভারে যুক্ত হওয়ার ফলে তথ্য বিকৃতির আশঙ্কা যেমন কমবে, তেমনই জালিয়াতি বা ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও প্রায় থাকবে না। যদিও মাঠপর্যায়ের সমস্ত তথ্য যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত পরিসংখ্যান বা রূপরেখা ২০২৭ সালের দিকেই জনসমক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। প্রথম দফায় বাড়ি ও নাগরিক সুবিধার মূল শুমারি বা আদমশুমারি সম্পন্ন হওয়ার পর, পরবর্তী ধাপে ভারতের বহুচর্চিত জাত সমীক্ষা বা কাস্ট সেন্সাসের কাজ শুরু হবে। এই নির্ভুল পরিসংখ্যান আগামী দিনে রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প গ্রহণ এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকারের নীতি নির্ধারণে দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।
