১ জুলাই থেকে বদলে যাচ্ছে বাংলার গ্রাম! ১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিনের কাজ, জানুন নয়া প্রকল্পের ১০ চমক – এবেলা

১ জুলাই থেকে বদলে যাচ্ছে বাংলার গ্রাম! ১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিনের কাজ, জানুন নয়া প্রকল্পের ১০ চমক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: আগামীকাল, ১ জুলাই থেকে বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে শুরু হচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলে আসা ‘১০০ দিনের কাজ’ (MGNREGA) প্রকল্পের সমাপ্তি ঘটিয়ে এবার কার্যকর হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন আইন ও প্রকল্প— ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার ও আজীবিকা (VB-G RAM G)’। কেন্দ্রীয় সহায়তায় এই প্রকল্পে বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ৮,৫০৮ কোটি টাকা।

আপনার গ্রাম ও উপার্জনের ওপর কী প্রভাব পড়বে? এক নজরে দেখে নিন এই প্রকল্পের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

১. নতুন আইন: মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইনের জায়গায় এখন থেকে কার্যকর হচ্ছে ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার ও আজীবিকা’।

২. ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা: ১০০ দিনের পরিবর্তে এখন থেকে প্রতিটি যোগ্য গ্রামীণ পরিবারকে বছরে ১২৫ দিনের মজুরিভিত্তিক কাজের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। এতে প্রায় ২.৫৬ কোটি জব কার্ডধারী উপকৃত হবেন।

৩. অর্থ বরাদ্দ: কেন্দ্র ও রাজ্যের অনুপাত থাকছে ৬০:৪০। অর্থাৎ কেন্দ্র দিচ্ছে ৮,৫০৮ কোটি টাকা এবং রাজ্য ৫,৬৭২ কোটি টাকা।

৪. কাজের অগ্রাধিকার: জল সংরক্ষণ, গ্রামীণ পরিকাঠামো তৈরি, জীবিকার মানোন্নয়ন এবং দুর্যোগ মোকাবিলার কাজে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

৫. কৃষি মরশুমে ছুটি: বীজ বোনা ও ফসল কাটার মরশুমে বছরে মোট ৬০ দিন কাজ বন্ধ থাকবে, যাতে কৃষিকাজে শ্রমিকের টান না পড়ে।

৬. বেকারভাতা ও ক্ষতিপূরণ: কাজ চাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তা প্রদান করতে হবে। দিতে না পারলে মিলবে বেকারভাতা। এছাড়া মজুরি প্রদানে ১৫ দিনের বেশি দেরি হলে মিলবে ক্ষতিপূরণ।

৭. যন্ত্রের ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ: মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে যন্ত্রের ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয়ের ৬০ শতাংশই খরচ হবে সরাসরি শ্রমিকের মজুরিতে।

৮. ডিজিটাল নজরদারি: উপস্থিতি জানানোর জন্য বায়োমেট্রিক, জিও-ট্যাগিং, ডিজিটাল এস্টিমেট এবং অনলাইনে তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

৯. স্বচ্ছতা: প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে সোশ্যাল অডিট ও জেলা স্তরে ওম্বাডসম্যানের মাধ্যমে কড়া নজরদারি রাখা হবে।

১০. উন্নয়নের নতুন মডেল: রাজ্য সরকারের দাবি, এটি কেবল কর্মসংস্থান নয়, বরং গ্রামীণ পরিকাঠামো ও ডিজিটাল প্রশাসনের সমন্বয়ে এক সামগ্রিক উন্নয়নের মডেল হিসেবে কাজ করবে।

আগামীকাল থেকেই রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে এই প্রকল্পের সুফল পাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *