২০০০ বার ফোন, ২৩৪ ঘণ্টার ফিসফাস! প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে হবু বরকে ৪০০ ফুট খাদে ফেলে খুন তরুণীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পুনে: মেঘালয়ের হানিমুন মার্ডারের স্মৃতি উসকে এবার পুনেতে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ঠান্ডা মাথায় ছক কষে নিজের হবু বরকে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ঠেলে ফেলে দিল বাগদত্তা! পুনের লোহাগড় দুর্গের (Lohagad Fort) এই ঘটনায় তরুণ ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর হবু স্ত্রী সিয়া গোয়েল এবং সিয়ার গোপন প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে।
কীভাবে শুরু এই গোপন প্রেমের? পুলিশের তদন্তে পরতে পরতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত বছর একটি দিওয়ালি পার্টিতে সিয়া ও চেতনের পরিচয় হয়। তারপর থেকেই ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। কেতনের সঙ্গে সিয়ার বিয়ে ঠিক হলেও, গোপনে চেতনের সঙ্গেই সম্পর্ক চালিয়ে যান সিয়া। কল রেকর্ড বলছে, গত কয়েক মাসে সিয়া ও চেতন ২,০০০-এরও বেশি বার ফোনে কথা বলেছেন, যার মোট সময়কাল ২৩৪ ঘণ্টারও বেশি! শহরের একটি ক্যাফেতে নিয়মিত দেখা করে কেতনকে রাস্তা থেকে সরানোর ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করত তাঁরা।
খুনের আগের ব্যর্থ ছক: ১৮ জুন সফল হওয়ার আগে, কেতনকে খুনের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেছিল এই ঘাতক যুগল—
- পাসপোর্ট গায়েব: গত ৬ জুন প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য কেতন ও সিয়ার বালি (Bali) যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিমানবন্দরে গিয়ে কেতন দেখেন তাঁর পাসপোর্ট নেই! পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ট্রিপ বাতিল করতে সেই পাসপোর্ট ইচ্ছাকৃতভাবে সরিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল।
- সাপের গল্প: গত ৩১ মে এই লোহাগড় দুর্গেই কেতনকে খাদে ফেলার প্রথম চেষ্টা করে সিয়া। সেবার পাহাড়ের ধারের একটি ঝোপ ধরে বেঁচে যান কেতন। নিজের অপরাধ ঢাকতে সিয়া তখন গল্প ফাঁদে যে, সাপ দেখে ভয় পেয়ে সে আচমকা ধাক্কা দিয়ে ফেলেছিল।
যেভাবে বাস্তবায়িত হলো মার্ডার প্ল্যান: সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ১৮ জুন ফের কেতনকে লোহাগড় দুর্গে বেড়াতে নিয়ে যায় সিয়া। পরিকল্পনা মাফিক সেখানে আলাদাভাবে এসে পৌঁছায় প্রেমিক চেতনও। এরপর সুযোগ বুঝে দুর্গের উঁচু জায়গা থেকে কেতনকে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ঠেলে ফেলে দেয় দু’জনে।
প্রথমে এটিকে নিছকই দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করেছিল অভিযুক্তরা। কিন্তু পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় তদন্ত শুরু হয়। শেষমেশ সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড এবং বয়ানের অসঙ্গতি মিলিয়ে পুলিশের জালে ধরা পড়ে যায় ঘাতক প্রেমিকা ও তার প্রেমিক।
