২০০১ ও ২০১১ সালের ছায়া ছাপিয়ে ২০২৬-এর ভোট কেন অনন্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মাহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০০১ এবং ২০১১ সালের স্মৃতি বারবার ফিরে আসলেও, নানা প্রেক্ষাপটে ২০২৬-এর এই ভোট নিজের বিশেষত্বে অনন্য। স্বাধীনতার পর রাজ্যে এমন নজিরবিহীন ভোটদানের হার আগে কখনও দেখা যায়নি, যা রাজনৈতিক পন্ডিতদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
অতীতের ছায়া বনাম বর্তমান বাস্তবতা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এই নির্বাচনের সঙ্গে ২০০১ সালের ‘হাওয়ার নির্বাচনের’ তুলনা করছেন। সেবার নতুন দল হিসেবে তৃণমূলের প্রবল জোয়ার থাকলেও সাংগঠনিক দুর্বলতায় জয় অধরা ছিল। অন্যদিকে, অপর অংশ একে ২০১১ সালের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ভোটের সঙ্গে তুলনা করছেন, যেখানে কড়া নিরাপত্তায় মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছিল। তবে ২০২৬-এর প্রেক্ষিত ভিন্ন; এখানে একদিকে যেমন সরকার বিরোধী হাওয়া বা ‘অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি’ কাজ করছে, ঠিক তেমনি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো জনমুখী প্রকল্পগুলো শাসক শিবিরের জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো প্রায় নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। বহুকাল পর বাংলা এমন একটি ভোট দেখলো যেখানে প্রাণহানি কিংবা বোমা-গুলির তাণ্ডব ছিল অনুপস্থিত। প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার আধাসামরিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং নির্বাচন কমিশনের আধুনিক প্রযুক্তি ও ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কয়েক লক্ষ ভুয়া ভোটার বাদ দেওয়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে। কোনো নির্দিষ্ট জোট বা ঝড়ের চেয়েও এবারের লড়াই যেন সমানে-সমান। ফলে পুরনো কোনো ছকে এবারের ফলাফলকে না ফেলে বরং এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বঙ্গভূমি।
