২২ বছরের তরুণীর প্রেমে ৬০ বছরের বৃদ্ধ! শেষে যা করলেন গ্রামবাসীরা… – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বয়সের ব্যবধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিহারের কাটিহারে এক অভাবনীয় প্রেমের পরিণতি মিলল বিয়ের মণ্ডপে। কাটিহারের মণিহারী ব্লকের বাঘমারা পঞ্চায়েতে ২২ বছর বয়সী এক তরুণী ও ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল ভাইরাল। গত দুই বছর ধরে চলা এই গোপন প্রেম সম্প্রতি গ্রামবাসীদের চোখে ধরা পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর কোনো রকম সামাজিক জটিলতা তৈরি না করে পঞ্চায়েত ও স্থানীয় বাসিন্দারা মিলে গত বুধবার রাতে গ্রাম্য মন্দিরে ধুমধাম করে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন করেন।
পারিবারিক সম্মতি ও স্বতঃস্ফূর্ত সিদ্ধান্ত
এই আসাম বিয়ে নিয়ে পাত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁরা একে অপরকে গভীরভাবে ভালোবাসেন এবং কোনো রকম সামাজিক বা মানসিক চাপ ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজেদের ইচ্ছায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর ৬০ বছর বয়সী সুগ্রিম পাসওয়ানও এই বিয়ের ক্ষেত্রে নিজের পূর্ণ সম্মতি ও ভালোলাগার কথা প্রকাশ করেছেন। পাত্রী পার্শ্ববর্তী বোলিয়া পঞ্চায়েতের বাসিন্দা। তাঁদের বয়সের ব্যবধান প্রায় ৩৮ বছর হলেও পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আবেগের টানে তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। প্রাথমিকভাবে গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান ও প্রবীণ ব্যক্তিরা তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও, যুগল একসাথে থাকার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় গ্রামবাসীরা শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা নেন।
সামাজিক প্রভাব ও মনস্তাত্ত্বিক দিক
মনোবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সঙ্গীদের মধ্যে বয়সের বড় ব্যবধান থাকলে জীবনযাত্রা, চিন্তাভাবনা এবং মানসিক পরিপক্কতার ক্ষেত্রে ভিন্নতা আসতে পারে। সাধারণত বয়সে বড় সঙ্গীর জীবন অভিজ্ঞতা বেশি থাকায় তা সম্পর্কে স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তা প্রদান করে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, ১০ বছর বা তার বেশি বয়সের ব্যবধান থাকলে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য এবং ভাবাবেগের ক্ষেত্রে কিছু বৈপরীত্য তৈরি হতে পারে। কিন্তু এই বিয়ের ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা না থাকায় এবং দুজনেরই সম্মতি থাকায় গ্রামবাসীরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মন্দিরে বিয়ের সময় উপস্থিত সকলেই করতালির মাধ্যমে এই নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করেন, যা রক্ষণশীল গ্রামীণ সমাজে এক ব্যতিক্রমী উদারতার প্রতীক।
এক ঝলকে
- বিহারের কাটিহারে ২২ বছর বয়সী তরুণীর সাথে ৬০ বছরের বৃদ্ধ সুগ্রিম পাসওয়ানের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
- গত দুই বছর ধরে চলা তাঁদের এই প্রেমের সম্পর্ক গ্রামবাসীদের হস্তক্ষেপে প্রকাশ্যে আসে।
- কোনো সামাজিক চাপ ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছায় এবং পঞ্চায়েতের উপস্থিতিতে স্থানীয় মন্দিরে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়।
- সামাজিক মাধ্যমে বিয়ের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
