২৫ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রতারণা ও জাতিগত অপমান! পলাশ মুচ্ছলের বিরুদ্ধে এফআইআর

২৫ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রতারণা ও জাতিগত অপমান! পলাশ মুচ্ছলের বিরুদ্ধে এফআইআর

ভারতীয় ক্রিকেটের তারকা স্মৃতি মান্ধানার সঙ্গে বিচ্ছেদ-বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে বড়সড় আইনি বিপাকে জড়ালেন জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক পলাশ মুচ্ছল। তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী বিজ্ঞন মানে স্মৃতি মান্ধানার শৈশবের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। মহারাষ্ট্রের সাংলির এই বাসিন্দার দাবি, পলাশ তাঁকে কেবল আর্থিক প্রতারণাই করেননি, বরং তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় অত্যন্ত অপমানজনক জাতিগত কটূক্তিও করেছেন।

আর্থিক প্রতারণা ও বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ‘নজরিয়া’ নামক একটি চলচ্চিত্র প্রকল্পের জন্য বিজ্ঞন মানের কাছ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন পলাশ। প্রতিশ্রুতি ছিল, ছয় মাসের মধ্যে ছবি শেষ হবে এবং বিজ্ঞন সেখানে অভিনয়ের সুযোগ পাবেন। লভ্যাংশসহ টাকা ফেরতের কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও কাজ শুরু হয়নি। অভিযোগকারীর দাবি, গত বছরের ২২ নভেম্বর সাংলিতে এক বৈঠকে টাকা ফেরত চাইলে পলাশ তাঁকে লক্ষ্য করে চরম জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন। বিজ্ঞন মানের মতে, পলাশের আচরণ ও মানসিকতা অত্যন্ত কুরুচিকর এবং তিনি পরিকল্পিতভাবে এই প্রতারণা করেছেন।

পাল্টা মামলা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন

আইনি এই লড়াই অবশ্য একপাক্ষিক নয়। অভিযোগ ওঠার আগেই বিজ্ঞন মানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা ঠুকেছেন পলাশ মুচ্ছল। তাঁর আইনজীবীর দাবি, পলাশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই ভিত্তিহীন ও মিথ্যা কুৎসা রটানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই আইনি লড়াইয়ের সমান্তরালে পলাশের ব্যক্তিগত জীবনও টালমাটাল। স্মৃতি মান্ধানার সঙ্গে গত বছরের ডিসেম্বরে তাঁর বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই তিনি সংবাদ শিরোনামে রয়েছেন। বিয়ের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পরও পারিবারিক কারণ ও অসুস্থতার অজুহাতে তা বাতিল হয় এবং পরবর্তীতে দুজনেই সামাজিক মাধ্যমে একে অপরকে আনফলো করে বিচ্ছেদের বিষয়টি স্পষ্ট করেন।

প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

পলাশের বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ তাঁর পেশাদার ও সামাজিক জীবনে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে ২৫ লক্ষ টাকার প্রতারণা এবং অন্যদিকে কঠোর জাতিবিরোধী আইনের মামলা—সব মিলিয়ে আইনি লড়াই ক্রমেই জটিল হচ্ছে। পলাশ মুচ্ছল ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে নিজের কঠিন সময়ের কথা উল্লেখ করে গুজব ছড়াতে নিষেধ করলেও, আদালতের কাঠগড়ায় নিজের নির্দোষ প্রমাণ করা এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিনোদন জগতে তাঁর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *