৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত সস্তা হতে পারে সোনা, এক ধাক্কায় রেকর্ড পতনের বড় আশঙ্কা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৫ সালে সোনা ও রুপোর রেকর্ড ভাঙা উত্থানের পর ২০২৬ সালের শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেল হলুদ ধাতুর বাজার। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ১.৬ শতাংশ ভেঙে পড়ার পর বৃহস্পতিবার তা গত দুই মাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি)-এর ২০২৬ আউটলুক রিপোর্ট বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করেছে। রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সোনার দাম বিশ্ববাজারে ৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪,৬৮০ ডলার এবং ভারতীয় বাজারে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১.৫৮ লক্ষ টাকার আশেপাশে রয়েছে। ডব্লিউজিসি-র আশঙ্কা সত্যি প্রমাণিত হলে এবং বাজারে ২০ শতাংশ পতন ঘটলে, ভারতীয় বাজারে প্রতি ১০ গ্রাম সোনা প্রায় ৩১,৬০০ টাকা পর্যন্ত সস্তা হতে পারে। ফলে ১০ গ্রাম সোনার দাম নেমে আসতে পারে প্রায় ১.২৬ লক্ষ টাকায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও আউন্স প্রতি দাম ৯৩৬ ডলার কমে ৩,৭৪৪ ডলারে পৌঁছতে পারে।
আচমকা সোনার বাজারে ধসের কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের সূত্রপাত আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা থেকে। সাধারণত যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ বা ‘সেফ হেভেন’ মনে করে বিনিয়োগ বাড়ান সাধারণ মানুষ। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নিয়েছে। আমেরিকা-ইরাক উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। আর এই মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় চড়া রাখতে পারে।
সুদের হার বেশি থাকলে সোনা ধারণ করার আগ্রহ কমে যায়, কারণ সোনা থেকে সরাসরি কোনও নির্দিষ্ট বা নিয়মিত আয় আসে না। ফলে বিনিয়োগকারীরা সোনা ছেড়ে বন্ড বা অন্যান্য সুদ প্রদানকারী সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। এর পাশাপাশি শক্তিশালী মার্কিন ডলারও সোনার উপর চাপ বাড়িয়েছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির ফলে অন্য দেশের মুদ্রার বিপরীতে সোনা কেনা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে, যা বিশ্ববাজারে সামগ্রিক চাহিদা কমিয়ে দিচ্ছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও বাজারের গতিপ্রকৃতি
ডব্লিউজিসি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী দিনে সোনার ভাগ্য মূলত তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভর করবে— ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তেলের কারণে তৈরি মুদ্রাস্ফীতি এবং আমেরিকার সুদের হারের নীতি। তবে এই মন্দার আবহেও গ্লোবাল ব্যাঙ্কগুলো দীর্ঘমেয়াদে সোনা নিয়ে পুরোপুরি আশাহীন নয়। ইউবিএস তাদের সোনার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা ৫,৯০০ ডলার থেকে কিছুটা কমিয়ে ৫,৫০০ ডলার প্রতি আউন্স নির্ধারণ করেছে।
অন্যদিকে, ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকা মনে করছে যে বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান ঋণ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের লাগাতার সোনা কেনার প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজারকে আবার চাঙ্গা করতে পারে। আপাতত বিশ্ব বাজারের সমস্ত নজর রয়েছে আমেরিকার মুদ্রাস্ফীতির তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের আগামী পদক্ষেপের দিকে।
