৪৫ দিনেই সিল হবে সীমান্ত! শুভেন্দুর কড়া পদক্ষেপে অস্বস্তিতে ঢাকা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটল নবগঠিত রাজ্য সরকার। সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত জমি আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রশাসনিক জটিলতা বা জমি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সীমান্ত সিল করার কাজ আর আটকে থাকবে না।
নিরাপত্তার কড়াকড়ি ও দিল্লির প্রতিশ্রুতি
ভারতের সাথে পশ্চিমবঙ্গের ৪,০৯৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার অংশ এখনও উন্মুক্ত। নদীপথ ও দুর্গম এলাকা হওয়ার পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় এই অংশে কাঁটাতার বসানো সম্ভব হয়নি। নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে দ্রুত জমি সমস্যার সমাধান করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি মেনেই নতুন সরকার বিএসএফ-এর হাতে জমি হস্তান্তরের সময়সীমা বেঁধে দিল। এর ফলে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও নিশ্ছিদ্র হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ। সে দেশের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে তাঁদের ভীতি নেই, তবে নয়াদিল্লির উচিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আরও ‘মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণ করা। তাঁর মতে, দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে গেলে বিএসএফ-এর কার্যপদ্ধতিতে সংবেদনশীলতা প্রয়োজন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের সরকার পরিবর্তন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মূলত ভারত সরকারের সঙ্গেই বজায় থাকবে।
প্রভাব ও পটভূমি
পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিটেমাটি ও জীবিকার দোহাই দিয়ে জমি হস্তান্তরে যে ধীরগতি ছিল, নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তে তা দ্রুত কাটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত জমি অধিগ্রহণের ফলে সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোর জনজীবনে কী প্রভাব পড়ে এবং বিএসএফ-এর তৎপরতা বাড়লে দুই দেশের সীমান্ত সম্পর্কের রসায়ন কেমন থাকে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। আপাতত বিএসএফ-এর হাতে জমি তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার মাধ্যমে রাজ্য প্রশাসন সীমান্ত সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
