৪৯ লক্ষ টাকার টিকিট কিনেও বিমানে উঠতে বাধা, ডাচ এয়ারলাইন্সের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর

পারিবারিক ভ্রমণের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিল আইনি লড়াইয়ে। নেদারল্যান্ডসের খ্যাতনামা বিমান সংস্থা কেএলএম (KLM) রয়্যাল ডাচ এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হেনস্থার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তামিলনাড়ুর এক চিকিৎসক। প্রায় ৪৯ লক্ষ টাকা খরচ করে বিজনেস ক্লাসের টিকিট কাটার পরও বিমানে উঠতে না পারার এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা এবং যাত্রী অধিকার নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও হয়রানির বিবরণ

তামিলনাড়ুর সেলেমের একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জেএস সতীশকুমার ২০২৪ সালের ১৯ জুন তাঁর পরিবারের সাত সদস্যকে নিয়ে পেরু ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন। বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁদের যাত্রা শুরু হওয়ার কথা ছিল। যাত্রার জন্য তিনি প্রায় ৪৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আটটি নন-রিফান্ডেবল বিজনেস ক্লাস টিকিট বুক করেন। যথাসময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও চেক-ইন কাউন্টারে তাঁদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করিয়ে রাখা হয়। শেষ মুহূর্তে বিমান সংস্থা জানায়, প্রয়োজনীয় ভিসা না থাকায় তাঁরা বিমানে উঠতে পারবেন না।

ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা ও ভুল ব্যাখ্যা

সতীশকুমারের দাবি অনুযায়ী, বিমান সংস্থাটি ভিসা সংক্রান্ত নিয়মের ভুল ব্যাখ্যা করেছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু দেশের বৈধ ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিট থাকলে ভারতীয় নাগরিকদের পেরু ভ্রমণের জন্য আলাদা ভিসার প্রয়োজন হয় না। অভিযোগ উঠেছে যে, বিমান সংস্থা এই বিষয়টি খতিয়ে না দেখেই তাঁদের যাত্রা বাতিল করে দেয়।

শুধু আর্থিক ক্ষতি নয় আত্মসম্মানের লড়াই

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ কেবল আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তাঁদের দাবি:

  • প্রতিবাদ জানালে বিমান সংস্থা তাঁদের ‘রেড ফ্ল্যাগ’ তালিকাভুক্ত করে, যা ভবিষ্যতে তাঁদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বাধার সৃষ্টি করতে পারে।
  • এমন কিছু দেশে যাতায়াত নিয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যেখানে তাঁরা কোনোদিন যাননি।
  • মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করার পরও বিমানবন্দরে চরম অপদস্থ হতে হয় পুরো পরিবারকে।

সতীশকুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি কেবল টাকা ফেরতের বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা ও দায়বদ্ধতার অভাবের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ।

আদালতের হস্তক্ষেপ ও আইনি পদক্ষেপ

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কর্ণাটকের দেবনাহাল্লির একটি আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আদালত কেএলএম রয়্যাল ডাচ এয়ারলাইন্সের সিইও এবং সিওও-সহ শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে। যদিও বিমান সংস্থাটির দাবি, তারা আন্তর্জাতিক অভিবাসন নিয়ম মেনেই কাজ করে। তারা যাত্রীদের অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশ করলেও মূলত নথিপত্রের সঠিকতা যাচাইয়ের ওপর জোর দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • ঘটনার তারিখ: ১৯ জুন, ২০২৪।
  • ভুক্তভোগী: জেএস সতীশকুমার ও তাঁর পরিবারের ৭ সদস্য।
  • গন্তব্য: পেরু (বেঙ্গালুরু বিমানবন্দর হয়ে)।
  • টিকিটের মূল্য: প্রায় ৪৯ লক্ষ টাকা (বিজনেস ক্লাস)।
  • মূল অভিযোগ: ভিসা থাকা সত্ত্বেও বিমানে উঠতে বাধা এবং পরবর্তীতে হেনস্থা।
  • বর্তমান অবস্থা: আদালতের নির্দেশে বিমান সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *