৮ টাকার ওআরএস ১৫, ১২০ টাকার বেডসিট ৫০০? দিল্লির ৬৫০ কোটির কেলেঙ্কারির নেপথ্যে আসল সত্যি কী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লির স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্দরে ৬৫০ কোটি টাকার কথিত স্বাস্থ্য কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. পঙ্কজ কুমার সিং এবং স্বাস্থ্য সচিব রূপেশ ঠাকুরের মধ্যে তীব্র প্রশাসনিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত: হাসপাতালের ওআরএস (ORS) স্যাশে, বেডসিট এবং পোর্টেবল ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন কেনাকাটায় বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন শাখা (ACB)-র কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন স্বাস্থ্য সচিব রূপেশ ঠাকুর। সচিবের অভিযোগের ভিত্তিতে এসিবি এফআইআর (FIR) রুজু করে তদন্ত শুরু করতেই মন্ত্রী ও সচিবের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তোপ ও অসন্তোষ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. পঙ্কজ কুমার সিং অভিযোগ করেছেন যে, কেনাকাটার বিষয়ে সচিব এ পর্যন্ত যে উত্তর দিয়েছেন তা একেবারেই অসন্তোষজনক। এর আগেও সাত-সাত বার বিস্তারিত তথ্য ও নথি তলব করা হলেও সচিব সঠিক রেকর্ড জমা দেননি। উল্টে ‘প্রয়োজনীয় নথি তদন্তকারী সংস্থার কাছে রয়েছে’— এই অজুহাতে তথ্য গোপন করা হচ্ছে বলে দাবি মন্ত্রীর।
বিতর্কিত কেনাকাটা ও দপ্তরের পালটা যুক্তি:
- ওআরএস (ORS) স্যাশে: এসিবি-র অভিযোগে প্রতিটি ওআরএস স্যাশের দাম ১৫ টাকা বলা হলেও, স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি— সেগুলি মাত্র ৮.৭০ টাকায় কেনা হয়েছিল।
- হাসপাতালের বেডসিট: ১২০ টাকার বেডসিট ৫০০ টাকায় কেনার অভিযোগ উঠেছিল। তবে মন্ত্রী জানান, বেডসিটগুলি ৩৯০ টাকায় কেনা হয়েছে এবং সেগুলির গুণমান অনুযায়ী এই দাম সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।
- পোর্টেবল ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন: ১১ লাখ টাকার এক্স-রে মেশিন ৩৩ লাখ টাকায় কেনার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দপ্তরের যুক্তি— কেন্দ্রীয় সরকারি পোর্টাল ‘GeM’ (Government e-Marketplace) এবং দেশের অন্যান্য রাজ্যও ঠিক একই দামে এই মেশিনগুলি ক্রয় করেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পঙ্কজ কুমার সিং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা বিচারে সচিবকে আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে সমস্ত নথিপত্রসহ বিন্দুওয়ার ও সংশোধিত জবাব পেশ করতে হবে। সচিবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় দিল্লির প্রশাসনিক মহলে এই সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
