৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও শিরশ্ছেদ, মাত্র ১৯ দিনেই দোষী দম্পতির ফাঁসির রায়

৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও শিরশ্ছেদ, মাত্র ১৯ দিনেই দোষী দম্পতির ফাঁসির রায়

নিজস্ব প্রতিবেদন, ঢাকা: রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে মাথা কেটে খুনের ঘটনায় মাত্র ১৯ দিনের মাথায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করল আদালত। রবিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন এই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত দম্পতি—সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসির সাজা শুনিয়েছেন।

ঘটনার পটভূমি ও নৃশংসতা:

নির্যাতিতা শিশুটি স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল ৯টা নাগাদ অভিযুক্ত স্বপ্না আক্তার কৌশলে শিশুটিকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীকালে শিশুটিকে খুঁজে না পাওয়ায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত সোহেল রানার দরজার সামনে শিশুটির জুতো দেখতে পান মা। ডাকাডাকির পরেও কোনো সাড়া না মেলায় স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে ঘরের ভেতর থেকে শিশুটির মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধার হয়। পাশেই একটি বালতির মধ্যে পাওয়া যায় বিচ্ছিন্ন মাথা, যা গোটা এলাকাকে স্তব্ধ করে দেয়।

আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ:

দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার নজির গড়ে মামলা দায়েরের মাত্র ৪ দিনের মাথায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল। বিচারক মাসরুর সালেকিন তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, “শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই মামলার দ্রুত, দক্ষ ও নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতনের অন্যান্য মামলাগুলোর ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

অর্থদণ্ড:

ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি আদালত দোষীদের ওপর মোটা অঙ্কের জরিমানা আরোপ করেছে। সোহেল রানাকে ৫ লক্ষ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, দোষীরা যদি জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাঁদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ মৃত শিশুর পরিবারকে প্রদান করতে হবে।

এই দ্রুত বিচার ও কঠোর সাজা শিশু সুরক্ষা ও অপরাধ দমনে রাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে গণ্য করছে আইনজ্ঞ মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *