অতিরিক্ত কফি পানে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে বিকল্পের খোঁজে বিশেষজ্ঞরা – এবেলা

অতিরিক্ত কফি পানে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি, সুস্থ থাকতে বিকল্পের খোঁজে বিশেষজ্ঞরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কাজের ক্লান্তি দূর করতে বা অলসতা কাটিয়ে চনমনে ভাব ফিরে পেতে এক কাপ কফির জুড়ি মেলা ভার। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের সকালটাই শুরু হয় কফিতে চুমুক দিয়ে, আর কর্মব্যস্তদের জন্য তো এটি দৈনন্দিন জীবনের এক অপরিহার্য অংশ। কিন্তু এনার্জি বাড়ানোর এই চটজলদি মাধ্যমটি আপনার শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসারের রোগীদের ক্ষেত্রে কফি পানের অভ্যাস মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।

ক্যাফেইনের ধাক্কা ও উচ্চ রক্তচাপের যোগসূত্র

কফির প্রধান উপাদান হলো ক্যাফেইন, যা সাময়িকভাবে উদ্দীপনা জোগালেও রক্তচাপ হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে পরিমিত কফি পান তেমন ক্ষতিকর না হলেও, যারা আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত কফি পানে অভ্যস্ত নন, তারা হঠাৎ করে কফি খাওয়ার মাত্রা বাড়িয়ে দিলে শরীরে এর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

মার্কিন খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসনের (এফডিএ) তথ্যমতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম (প্রায় ৩ কাপ) পর্যন্ত ক্যাফেইন গ্রহণ নিরাপদ। তবে এই পরিমাপ সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে দৈনিক ক্যাফেইনের পরিমাণ ২০০ মিলিগ্রামের নিচে রাখা উচিত। অন্যদিকে, হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, পাকস্থলীর আলসার বা তীব্র অ্যাসিডিটির রোগীদের জন্য কফি পুরোপুরি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। অতিরিক্ত কফি পানের ফলে দ্রুত হৃদস্পন্দন, অতিরিক্ত উদ্বেগ, অনিদ্রা, বমিভাব এবং শরীর কাঁপার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

যেভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন রক্তচাপ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে এবং হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে কফির বিকল্প খোঁজার পরামর্শ দিচ্ছেন। কফির আসক্তি কমাতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। কফির বদলে গ্রিন টি পানের অভ্যাস করা শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী। কফি খেতেই হলে চিনি ও দুধ ছাড়া ব্ল্যাক কফি খাওয়া ভালো, তবে তাও হতে হবে পরিমিত। এছাড়া রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক প্রচুর পরিমাণে জল পান করা এবং পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে মূল ভূমিকা পালন করে।

সামগ্রিকভাবে, একজন সুস্থ মানুষ পরিমিত পরিমাণে কফি পান করলে তা রক্তচাপে তেমন বড় প্রভাব ফেলে না। তবে যারা ইতিমধ্যেই হাই প্রেসারে ভুগছেন, তাদের জন্য অতিরিক্ত কফি পান এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। কফি পানের পর শরীরে কোনো ধরনের অস্বস্তি বা অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *