অনাস্থা আসতেই তৃণমূলের অন্দরে মহাবিদ্রোহ! পদত্যাগ করলেন হাওড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি – এবেলা

অনাস্থা আসতেই তৃণমূলের অন্দরে মহাবিদ্রোহ! পদত্যাগ করলেন হাওড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

হাওড়া: বড়সড় ভাঙন ও বিদ্রোহের মুখে তৃণমূল পরিচালিত হাওড়া জেলা পরিষদ। দলেরই সিংহভাগ সদস্যের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের জেরে শেষমেষ ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাবেরী দাস এবং সহ-সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য। শুক্রবার দু’জনেই প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে নিজেদের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। এই জোড়া ইস্তফার জেরে হাওড়া জেলা পরিষদে এক চরম প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হলো।

২৫ জন সদস্যের ‘বিদ্রোহ’, কাঠগড়ায় প্রাক্তন মন্ত্রী!

গত বুধবার সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং চরম স্বেচ্ছাচারের অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন তৃণমূলেরই সিংহভাগ সদস্য। জেলা পরিষদের ৪১ জন তৃণমূল সদস্যের মধ্যে ২৫ জনই সরাসরি এই অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে স্বাক্ষর করায় দলের ভেতরের কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসে।

বিক্ষুব্ধ সদস্যদের অভিযোগ, জেলা পরিষদের কাজকর্মে কোনও স্বচ্ছতা ছিল না এবং সাধারণ সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হতো না। তাঁদের আরও চাঞ্চল্যকর দাবি, প্রাক্তন মন্ত্রী পুলক রায় উলুবেড়িয়া থেকে রিমোট কন্ট্রোলে জেলা পরিষদের কাজ পরিচালনা করতেন এবং নির্বাচিত সদস্যদের পুরোপুরি উপেক্ষা করা হতো। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের এই অন্দরকলহ ও বিদ্রোহী শিবিরের সক্রিয়তা আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।

‘ব্যক্তিগত কারণ’, সাফাই ইস্তফাকারীদের:

দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারের সমস্ত অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন বিদায়ী সভাধিপতি কাবেরী দাস এবং সহ-সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য। কাবেরী দেবী বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা ব্যক্তিগত কারণেই পদত্যাগ করেছি।” একই সুর শোনা গিয়েছে অজয় ভট্টাচার্যের গলাতেও।

তবে সভাধিপতিদ্বয় ইস্তফা দেওয়ায় এবার নতুন নেতৃত্বের অধীনে জেলা পরিষদ আরও স্বচ্ছভাবে চলবে বলে দাবি করেছেন বিদ্রোহী সদস্যরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে সেখানে নির্বাচন হবে, নাকি রাজ্য সরকার কোনও প্রশাসক নিয়োগ করবে—তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে হাওড়ার রাজনৈতিক মহলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *