অনুপ্রবেশ রুখতে ‘স্মার্ট বর্ডার’! শুভেন্দু জমি দিতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাঁটাতার বসাচ্ছে BSF – এবেলা

অনুপ্রবেশ রুখতে ‘স্মার্ট বর্ডার’! শুভেন্দু জমি দিতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাঁটাতার বসাচ্ছে BSF – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেরার কাজ এবার অভাবনীয় গতি পেল। রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার বিএসএফ-কে (BSF) জমি হস্তান্তর করতেই বদলে যেতে শুরু করেছে বাংলার সীমান্তচিত্র। জমি পেয়েই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তে কাঁটাতারের স্তম্ভ বসানোর কাজ শেষ করে ফেলেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

জট কাটিয়ে জমির হস্তান্তর:

পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ২২০০ কিমি সীমান্ত রয়েছে, যার মধ্যে ৫৫০ কিমি অংশে বিগত সরকারের আমলে জমির অভাবে কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান রাজ্য সরকার দায়িত্ব নিয়েই বিএসএফকে দুই দফায় মোট ১৭৪.৭৯ একর (প্রথম দফায় ১৪২.৭৯ একর এবং দ্বিতীয় দফায় ৩২ একর) জমি হস্তান্তর করেছে। জমি হাতে পেয়েই প্রায় ৪০ কিলোমিটার অংশে স্তম্ভ বসানোর কাজ সেরে ফেলেছে বিএসএফ, যার ৪৮ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

কীভাবে তৈরি হচ্ছে ‘স্মার্ট বর্ডার’?

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠানো বিএসএফের ইস্টার্ন কমান্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু কাঁটাতার নয়, সীমান্তকে নিশ্ছিদ্র করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে:

  • উন্নত নজরদারি: সাধারণ সিসিটিভির বদলে রাতে নজরদারির জন্য ১৮০ ডিগ্রি ঘুরতে সক্ষম উচ্চমানের ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।
  • লেজার প্রযুক্তি: রাতের অন্ধকারে অনুপ্রবেশকারীদের নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে লেজার রশ্মির ব্যবহার করা হবে।
  • আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI): স্মার্ট বর্ডারের অঙ্গ হিসেবে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারেরও চিন্তাভাবনা চলছে।
  • আধুনিক আউটপোস্ট: পুরনো আউটপোস্টগুলির বদলে সম্পূর্ণ আধুনিক পরিকাঠামো যুক্ত নতুন আউটপোস্ট তৈরি হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:

বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে জমি না দেওয়ার কারণে অনুপ্রবেশ ও অপরাধ বেড়েছিল বলে সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সদ্য বিধানসভার অধিবেশনেও এই কাঁটাতার বসানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। সরকারের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে বিরোধী তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহাও জানান, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গ ও কোচবিহারেও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মুড়তে চলেছে বাংলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *