অন্নপূর্ণা প্রকল্পে টাকা পেতে দেরি? ভেরিফিকেশন নিয়ে বড় আপডেট দিলেন মুখ্যমন্ত্রী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়া নিয়ে রাজ্যের অসংখ্য উপভোক্তার মনে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে আসরে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রকল্পের টাকা কবে পৌঁছাবে—তা নিয়ে যারা চিন্তিত, তাঁদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, “যোগ্য কোনো মহিলাই এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।”
দ্রুত গতিতে কাজ করছে প্রশাসন মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দু’মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষিত এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে। এত বড় একটি প্রকল্পে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মাত্র দেড় মাসে ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকি যারা যোগ্য, তাঁরা অবশ্যই টাকা পাবেন। তবে কঠোর ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে অযোগ্যদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।” তিনি পুনরায় স্পষ্ট করেছেন যে, সরকারি পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হবে না; সরকার স্বচ্ছভাবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।
৩০ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে ভেরিফিকেশন প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রকল্পের সঠিক উপভোক্তা চিহ্নিত করার কাজ জোরকদমে চলছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন:
- সময়সীমা: আগামী ৩০ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে ভেরিফিকেশন বা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া।
- পরিসংখ্যান: প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ইতিমধ্যে গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মহিলা সুবিধা পেয়েছেন।
- পরবর্তী পদক্ষেপ: যাচাই-বাছাইয়ের পর যদি আরও ২ থেকে ৭ হাজার প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তা চিহ্নিত হন, তবে তাঁদেরও দ্রুত এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।
পূর্ববর্তী প্রকল্পের সাথে তুলনা পূর্ববর্তী সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সেই প্রকল্পের টাকা উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছাতে প্রায় ৯ মাস সময় লেগেছিল। তুলনায় তাঁদের সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মাত্র দেড় মাসের মধ্যে ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের কাছে অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ পৌঁছে দিয়েছে।
সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটাই—যাতে প্রকৃত এবং যোগ্য প্রত্যেক মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পান। তাই ধৈর্য ধরে প্রশাসনকে যাচাইয়ের কাজ শেষ করার জন্য আরও কিছুটা সময় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
