অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদনেই NRC-র গন্ধ? ৩০ প্রশ্নে উঠছে বড় প্রশ্ন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেই পূর্বতন সরকারের জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের পরিবর্ধিত রূপ হিসেবে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু করেছে বর্তমান বিজেপি সরকার। মাসিক ৩০০০ টাকা দেওয়ার এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হলেও, প্রকল্পের আবেদনপত্র প্রকাশ হতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের যে ফর্মটি প্রকাশ করেছেন, সেটি দীর্ঘ ১২ পাতার। এই বিশাল ফর্মে থাকা ৩০টি জটিল প্রশ্ন ঘিরে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
জটিল ফর্ম ও তথ্যের পাহাড়
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাসিক ৩০০০ টাকা পাওয়ার জন্য নতুন আবেদনকারীদের পাশাপাশি পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ২ কোটি ২০ লক্ষ উপভোক্তাকেও এই নতুন ১২ পাতার ফর্ম পূরণ করতে হবে। ফর্মে শুধু আবেদনকারী মহিলার ব্যক্তিগত তথ্যই নয়, চাওয়া হয়েছে গোটা পরিবারের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ। জমির পরিমাণ, ঘরের সংখ্যা, পরিবারের স্বাস্থ্যবিমা থেকে শুরু করে শিশুদের টিকাকরণের মতো ৩০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে উপভোক্তাদের। পিছিয়ে পড়া ও সাধারণ গ্রামীণ মহিলাদের পক্ষে এই বিশাল ও জটিল ফর্ম পূরণ করা অত্যন্ত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের অভিযোগ, রাজ্য সরকার সহায়তার আড়ালে সুকৌশলে প্রতিটি পরিবারের সমস্ত গোপন ও আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে।
অনুপ্রবেশকারী ছাঁটাই বনাম এনআরসি আতঙ্ক
এই বিপুল তথ্য চাওয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের একাংশের মনে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি-র আতঙ্ক দানা বাঁধছে। কেন সামান্য ভাতার জন্য একটি পরিবারের এত নথি ও বিবরণ লাগবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনো বৈধ মানুষ যাতে বঞ্চিত না হন এবং মৃত বা অনুপ্রবেশকারীরা যাতে এই সরকারি টাকা না পান, তা নিশ্চিত করতেই এই স্ক্রিনিং। ইতিমধ্যেই ভুয়ো গ্রাহক চিহ্নিত করে প্রায় ৩০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও প্রভাব
এই ফর্ম বিতর্ক নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে উঠেছে কাদা ছোড়াছুড়ি। বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পলের দাবি, পূর্বতন সরকারের আমলে অনুপ্রবেশকারীরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিল, তাই উপভোক্তা তালিকা নির্ভুল করতে এই যাচাইকরণ অত্যন্ত জরুরি ছিল। অন্যদিকে তীব্র বিরোধিতা করে কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন, ফর্মে পরিবারের এত খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত এবং এত শর্তের বেড়াজাল পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সবাই টাকা পাবেন তো? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কড়া নিয়মের কারণে উপভোক্তার সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যেতে পারে, যা আগামী দিনে সরকারের জন্য বড়ো জনরোষের কারণ হতে পারে।
