অন্নপূর্ণা যোজনায় স্বচ্ছতার কড়াকড়ি! ডবল টাকা পেতে জমা দিতে হবে পরিবারের বিস্তারিত আর্থিক তথ্য

অন্নপূর্ণা যোজনায় স্বচ্ছতার কড়াকড়ি! ডবল টাকা পেতে জমা দিতে হবে পরিবারের বিস্তারিত আর্থিক তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যে পালাবদলের পরেই মহিলাদের আর্থিক সহায়তায় বড়সড় পরিবর্তন। তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর ১৫০০ টাকার বদলে এবার দ্বিগুণ অনুদান নিয়ে চালু হলো ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। তবে অনুদানের অঙ্ক বাড়লেও, প্রকৃত প্রাপক বাছাইয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার আবেদন প্রক্রিয়ায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন।

আবেদন প্রক্রিয়ায় কী কী তথ্য বাধ্যতামূলক?

সরকার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র নতুন ফর্মে আবেদনকারীর পাশাপাশি পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর জোর দিয়েছে। আবেদনকারীদের যা যা তথ্য দিতে হবে:

  • পরিবারের ব্যাঙ্ক তথ্য: পরিবারের প্রধানের পাশাপাশি আরও ৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্কের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং IFSC কোড।
  • [Aadhaar Redacted] সংযুক্তিকরণ: সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা (DBT) পাওয়ার জন্য [Aadhaar Redacted] লিঙ্ক করা অ্যাকাউন্ট থাকা বাঞ্ছনীয়।
  • পেনশনের খুঁটিনাটি: পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি পেনশন পেলে তার সদস্য নম্বর ও পেনশন স্লিপ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
  • ব্যবসার তথ্য: পরিবারের কেউ GST-নিবন্ধিত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলে সেই GSTIN নম্বর ফর্মে উল্লেখ করতে হবে।
  • বার্ষিক আয়: পরিবারের মোট বার্ষিক আয়ের হিসাব ফর্মে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

কেন এই কড়াকড়ি?

প্রশাসনের দাবি, অনুদান দ্বিগুণ হওয়ায় সরকারি কোষাগারে চাপের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নিশ্চিত করতে হবে যে সাহায্য যেন কেবল প্রকৃত অভাবীদের কাছেই পৌঁছায়। পরিবারের মোট আর্থিক অবস্থা যাচাই করে ‘টার্গেটেড ডেলিভারি’ নিশ্চিত করতেই এই তথ্যগুলো চাওয়া হয়েছে।

মূলত, করদাতাদের টাকার সঠিক ব্যবহার এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্য যাতে অবৈধভাবে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না নিতে পারে, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। আবেদনকারীদের তালিকার নিয়মিত যাচাই ও সংশোধনের জন্য আগামী তিন মাস ধরে প্রতি সাত দিন অন্তর বিশেষ নজরদারি চালাবে প্রশাসন।

এই নতুন আর্থিক মডেলটি জনকল্যাণের পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয় রোধেও একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *