অন্নপূর্ণা যোজনা: কারা পাবেন ৩,০০০ টাকা আর কারা বাদ? নবান্ন থেকে বড় নির্দেশিকা মুখ্যমন্ত্রীর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যবাসী মহিলাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, কোন কোন মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় টাকা পাওয়ার যোগ্য এবং কারা এখান থেকে বাদ পড়বেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে জমা পড়া আবেদনপত্রগুলি সতর্কতার সঙ্গে যাচাই বা ‘ঝাড়াই-বাছাই’য়ের কাজ চলছে, যা বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেষ হবে। যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলতি মাসের ১৭ তারিখ থেকেই টাকা পাঠানো শুরু হবে। আগামী মাস থেকে প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই উপভোক্তারা এই ভাতা পেয়ে যাবেন।
কারা পাবেন না অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা? প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বেশ কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও আয়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে:
- সরকারি চাকরি ও পেনশনভোগী: কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনো সংস্থায় কর্মরত মহিলা, স্থায়ী সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং সরকার বা সরকার পোষিত বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
- উচ্চ আয়সীমা ও আয়করদাতা: যে পরিবারগুলি আয়কর প্রদান করে অর্থাৎ যাদের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকা বা তার বেশি, সেই পরিবারের সদস্যরা এই টাকা পাবেন না।
- ব্যক্তিগত আয়: কোনো মহিলা যদি নিজে মাসে ১০,০০০ টাকার বেশি উপার্জন করেন, তবে তিনি বাদ পড়বেন। তবে, পরিবারের অন্য কোনো সদস্য বা স্বামী ১০ হাজার টাকার বেশি আয় করলেও, মহিলা নিজে উপার্জন না করলে তিনি আবেদনের যোগ্য হবেন।
কারা টাকা পাওয়ার জন্য যোগ্য?
- বয়সসীমা: আবেদনকারী মহিলার বয়স অবশ্যই ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- অন্যান্য ভাতার সমন্বয়: ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা বাবদ মাসে ৩,০০০ টাকার কম পান, তবে অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে তাঁদের ভাতা বাড়িয়ে পুরো ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
- বিশেষ ছাড়: দিব্যাঙ্গ ভাতা এবং ‘পিএম কিষাণ সম্মান নিধি’র সুবিধাভোগীরা এই প্রকল্পের সুবিধাও পাবেন।
- গ্রাম ও শহরের নিয়ম: গ্রামীণ এলাকায় তিন কামরার বাড়ি থাকলেও মহিলারা আবেদন করতে পারবেন। তবে ৭টি পুরনিগম এলাকায় ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমি থাকলে ওই বাসিন্দা প্রকল্পের আওতায় আসবেন না।
অভিযোগ জানানোর সুযোগ: প্রপ্রকদের সুবিধা ও স্বচ্ছতার জন্য একটি বিশেষ ‘অভিযোগ পোর্টাল’ চালু রাখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “যোগ্য কোনো বোন বা দিদি যদি বঞ্চিত হন অথবা গাইডলাইনের বাইরে কেউ অসাধুভাবে টাকা পান, তবে পোর্টালে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে। প্রতিটি অভিযোগের শুনানি করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” চলতি আগস্ট মাসেই প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে অর্থ পৌঁছে যাবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
