অবশেষে কাটছে চিকিৎসকের আকাল! কবে থেকে মিলবে বাঁকুড়া মেডিক্যালে স্বস্তি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রোগীর ব্যাপক চাপ ও তীব্র চিকিৎসক ঘাটতির জঙ্গলমহলের বৃহত্তম সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দীর্ঘদিনের সংকট এবার কার্যত স্বীকার করে নিল স্বাস্থ্যদপ্তর। রবিবার বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে রাজ্যের ডিরেক্টরেট অফ মেডিক্যাল এডুকেশন বা ডিএমই ইন্দ্রজিৎ সাহা জানান, সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের কাউন্সেলিং ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। খুব শীঘ্রই নিয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশনামা প্রকাশ করা হবে এবং এর পরেই রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নতুন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ করা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ৭৩ জন চিকিৎসকের প্রয়োজনের বিপরীতে মাত্র ৩২ জন চিকিৎসক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলি পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে শিশু, গাইনি ও ট্রমা কেয়ারসহ একাধিক বিভাগে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন রোগীকে অন্য হাসপাতালে রেফার করতে বাধ্য হচ্ছেন কতৃর্পক্ষ।
চিকিৎসক ঘাটতির এই বাস্তব চিত্র মেনে নিয়ে স্বাস্থ্যকর্তা জানান, কর্মরত চিকিৎসকেরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও অক্লান্ত পরিশ্রম করে পরিসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। রবিবার পুরুলিয়া ও রঘুনাথপুর মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শনের পর ইন্দ্রজিৎ সাহার নেতৃত্বে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ এবং খাতড়া মহকুমা হাসপাতাল ঘুরে দেখে পরিকাঠামো ও মানবসম্পদ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন চিকিৎসক যোগ দিলে স্বাস্থ্যসেবার উপর থেকে অতিরিক্ত চাপ অনেকটাই হ্রাস পাবে। তবে শুধুমাত্র সিনিয়র রেসিডেন্ট নিয়োগ ছাড়াও সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো স্থায়ীভাবে সচল রাখতে পর্যাপ্ত নার্স, টেকনিশিয়ান এবং সহায়ক কর্মী নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি। এখন চূড়ান্ত নির্দেশনামা প্রকাশের পর বাস্তবে ঠিক কত সংখ্যক চিকিৎসক এই হাসপাতালে যোগ দেন, সেটাই দেখার বিষয়।
