অবশেষে মিটছে ডিএ জট, অবসরের পর বকেয়া টাকা হাতে পেয়ে মুখে হাসি প্রাক্তন কর্মীদের! – এবেলা

অবশেষে মিটছে ডিএ জট, অবসরের পর বকেয়া টাকা হাতে পেয়ে মুখে হাসি প্রাক্তন কর্মীদের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একটি নির্দিষ্ট অংশের বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা বা ডিএ (DA) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করল নবান্ন। নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে শুক্রবার থেকেই যোগ্য প্রাপকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই বকেয়া টাকা জমা পড়তে শুরু করেছে। লোকসভা ভোটের আবহে রাজ্যের এই বড় পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তবে এই সুবিধা আপাতত সব অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর জন্য নয়। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, যাঁরা ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন, শুধুমাত্র তাঁদের অ্যাকাউন্টেই এই টাকা পাঠানো হচ্ছে।

টাকা মিললেও কাটেনি ধোঁয়াশা

বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান শুরু হলেও তা ঘিরে নতুন করে ধোঁয়াশা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, ঠিক কত শতাংশ হারে এই বকেয়া ডিএ মেটানো হচ্ছে, সে বিষয়ে নবান্নের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কীসের ভিত্তিতে এই হিসাব নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমনকি যে সমস্ত কর্মচারী সংগঠন এই বকেয়া ডিএ-র দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, তাদেরও সরকারিভাবে এই হিসাবের বিষয়ে কোনও তথ্য জানানো হয়নি। ফলে অর্থপ্রদান শুরু হলেও তার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আন্দোলনকারীরা।

১ জুনের বৈঠক ও আইনি লড়াইয়ের ভবিষ্যৎ

এই পরিস্থিতিতে সকলের নজর এখন আগামী ১ জুনের হাইভোল্টেজ বৈঠকের দিকে। ওই দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মরত রাজ্য সরকারি কর্মীরা কবে থেকে বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা পাবেন, সেই বিষয়ে এই বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মহার্ঘ্য ভাতা সংক্রান্ত মূল মামলাটি এখনও দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন। তবে এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নিয়ে আপাতত অপেক্ষা আরও বাড়তে চলেছে। কারণ, সুপ্রিম কোর্টের কাছে শুনানির জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন আন্দোলনকারী কর্মচারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। ফলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের একাংশের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করলেও, কর্মরত কর্মীদের ভবিষ্যৎ প্রাপ্য এবং আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *