অবশেষে মুখোশ খুলল বেইজিংয়ের! ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ পাকিস্তানের হয়ে যুদ্ধের ময়দানে ছিল চীন

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গত বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ‘অপারেশন সিন্দুর’ চলাকালীন ইসলামাবাদকে সরাসরি কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে বেইজিং। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অব চায়না (এভিআইসি)-এর প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, যুদ্ধের সময় তারা পাকিস্তানে অবস্থান করে যুদ্ধবিমানসহ সামরিক সরঞ্জামের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে কাজ করেছিলেন। দীর্ঘ এক বছর ধরে বিষয়টি অস্বীকার করে আসলেও সম্প্রতি সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বেইজিংয়ের এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির তথ্য উঠে এসেছে।
চীনের কারিগরি ও সামরিক ভূমিকা
চীনা প্রকৌশলী ঝাং হেং জানান, সংঘাতের সময় তারা পাকিস্তানের সাপোর্ট বেসে মোতায়েন ছিলেন এবং ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রতিকূল পরিবেশে দিনরাত কাজ করেছেন। বিশেষ করে চীন নির্মিত জে-১০সিই (J-10CE) ফাইটার জেটের যুদ্ধক্ষমতা বজায় রাখতে তাদের টিম মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ছিল। ভারতের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এখন চীনের জন্য একটি ‘লাইভ ল্যাবরেটরি’ বা জীবন্ত পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে, যেখানে বেইজিং প্রকৃত যুদ্ধের পরিবেশে নিজেদের আধুনিক অস্ত্রের কার্যকারিতা যাচাই করে নিচ্ছে।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট ও ভারতের অবস্থান
গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে। এর আওতায় পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি আস্তানায় হামলা চালিয়ে লস্কর ও জৈশ-ই-মুহাম্মদের শতাধিক সন্ত্রাসীকে নির্মূল করা হয়। বর্তমানে পাকিস্তানের সামরিক হার্ডওয়্যারের ৮১ শতাংশই চীনা বংশোদ্ভূত, যা দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা ডিআইএ-এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদনেও ভারতকে চীনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- গত বছরের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে চীন সরাসরি পাকিস্তানকে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কথা প্রথমবার স্বীকার করল।
- চীনা প্রকৌশলীরা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা বজায় রাখতে যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন।
- ২০১৫ সাল থেকে চীন পাকিস্তানের কাছে ৮.২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে এবং পাকিস্তান বর্তমানে চীনের বৃহত্তম অস্ত্র ক্রেতা।
- ভারতীয় সেনাবাহিনীর মতে, বেইজিং পাকিস্তানকে তাদের সামরিক প্রযুক্তি পরীক্ষার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করছে।
