অবশেষে রাজনীতির ময়দানে অভিনেতা পরমব্রত, কৃষ্ণনগরের সভা থেকে দিলেন সুরক্ষার বার্তা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
টলিউডের ‘বুদ্ধিজীবী’ অভিনেতা হিসেবে পরিচিত পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় অবশেষে সরাসরি সক্রিয় রাজনীতির আঙিনায় পা রাখলেন। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি থাকলেও, ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের ঠিক আগে তাঁর এই প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শনিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগর দক্ষিণে তৃণমূলের প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাসের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় নীল-সাদা উত্তরীয় গলায় জড়িয়ে সশরীরে হাজির হন তিনি। অভিনেতা জুন মালিয়ার উপস্থিতিতে চক দিগনগর হাইস্কুলের মাঠ থেকে নিজের রাজনৈতিক সফর শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন এই তারকা-পরিচালক।
বাংলা ও বাঙালির মর্যাদা রক্ষার লড়াই
মঞ্চে দাঁড়িয়ে পরমব্রত তাঁর এই উপস্থিতিকে কেবল প্রচার নয়, বরং ‘বাংলা-বাঙালির আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেন। চড়া রোদ আর ধুলো উপেক্ষা করে সভায় আসা মহিলাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলার নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বাইরের রাজ্য থেকে এসে কেউ জ্ঞান দেবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, বিজেপি শাসিত অনেক রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ নারীদের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ।
তৃণমূলে পরমের ভবিষ্যৎ ও প্রভাব
২০২৬-এর নির্বাচনে পরমব্রত প্রার্থী হতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি প্রচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তাঁর এই ‘পলিটিক্যাল ডেবিউ’ বাংলার শিক্ষিত ও তরুণ ভোটারদের তৃণমূলের পক্ষে টানতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক এবং বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে পরমের স্পষ্ট অবস্থান শাসক শিবিরের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করতে পারে।
এক ঝলকে
- কৃষ্ণনগর দক্ষিণে তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাসের সমর্থনে সশরীরে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।
- নিজের উপস্থিতিকে বাঙালির আত্মসম্মান ও নারী নিরাপত্তা রক্ষার লড়াই বলে উল্লেখ করেছেন এই অভিনেতা।
- বাইরের রাজ্যের নেতাদের নারী সুরক্ষা নিয়ে সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে বাংলাকে নিরাপদ রাজ্য হিসেবে দাবি করেন তিনি।
- সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁর এই যোগদান ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূলের জন্য বাড়তি মাইলেজ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
