অভিষেকের আপ্তসহায়ক-যোগ! মাঝরাতে বাড়ি থেকে পুলিশি হেফাজতে পলাশ চক্রবর্তী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ব্যান্ডেল: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। সেই সুমিতের খোঁজে তল্লাশি চলাকালীনই এবার তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু পলাশ চক্রবর্তীকে মাঝরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। ঠিক কোন মামলায় বা কী অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছে, তা নিয়ে অন্ধকারে পলাশের পরিবার।
কী জানা যাচ্ছে?
অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ সাদা রঙের একটি গাড়িতে করে পাঁচ জন পুলিশকর্মী পলাশের ব্যান্ডেলের বাড়িতে পৌঁছান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, পুলিশি পরিচয় দিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলেও, কোন থানার পুলিশ বা কোন মামলায় তাঁকে আটক করা হয়েছে—তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। পলাশের বাবা প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, “ছেলে পাথরের ব্যবসা করে, কিন্তু কেন তাঁকে পুলিশ এভাবে তুলে নিয়ে গেল তা বুঝতে পারছি না।”
পলাশ ও সুমিতের সম্পর্ক:
পলাশ চক্রবর্তী তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী এবং প্রাক্তন ছাত্রনেতা। শ্রীরামপুর কলেজের জেনারেল সেক্রেটারি থাকার সময় থেকেই প্রাক্তন যুব তৃণমূল নেতা ও নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্রের খবর, নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত শান্তনুর পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের সঙ্গেও পলাশের গভীর ঘনিষ্ঠতা ছিল।
সুমিত রায়ের খোঁজে মরিয়া পুলিশ:
তৃণমূল নেতা সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। শালবনি থানার পুলিশ ইতিমধ্যে অভিষেকের বাসভবন ও সুমিতের শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। সুমিতের আগাম জামিনের আবেদন আদালত খারিজ করে দেওয়ার পর, তিনি যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন—সেজন্য তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিসও জারি করা হয়েছে। সুমিতকে পাকড়াও করার অংশ হিসেবেই তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে পুলিশি চাপ বাড়ানো হচ্ছে কি না, সেই জল্পনাই এখন রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে।
