অভিষেকের চিঠি খারিজ বিধানসভায়, ঘর না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শোভনদেব! – এবেলা

অভিষেকের চিঠি খারিজ বিধানসভায়, ঘর না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শোভনদেব! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বালিগঞ্জের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হলেও, বিধানসভায় তাঁর বসার ঘর পাওয়া নিয়ে তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। সোমবারও বিধানসভার বিরোধী দলনেতার ঘরটি তালাবন্ধ থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন প্রবীণ এই রাজনীতিক। এই ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি চিঠি, যা বিধানসভার সচিবালয় সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে।

আইনি জটিলতার কারণ

বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করার পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে যে চিঠি পাঠানো হয়, তাতে সই ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, পরিষদীয় দল সংক্রান্ত যেকোনো চিঠি বা দাবি জানানোর এক্তিয়ার শুধুমাত্র সেই দলের বিধায়কদেরই রয়েছে। সচিবালয়ের যুক্তি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার সাংসদ, বিধানসভার সদস্য নন। তাই বিধানসভার রুল বুক অনুযায়ী তাঁর দেওয়া চিঠির কোনো আইনি বৈধতা নেই। অ-সদস্যের চিঠির ভিত্তিতে বিরোধী দলনেতার ঘর বা অন্যান্য সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সচিবালয়।

ক্ষোভ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

সচিবালয় এই আপত্তির কথা স্পষ্ট করার পর বিধানসভা চত্বরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ঘটনার প্রতিবাদে তিনি তথ্যের অধিকার আইনে (RTI) একটি আবেদনও জানান। প্রবীণ এই নেতা অতীতে তৃণমূলের একক লড়াইয়ের দিনগুলির কথা স্মরণ করে বলেন, “দরকার হলে এবারও রাস্তায় বসে যাব, কিন্তু কোনও আবেদন-নিবেদন করতে যাব না।” শেষ পর্যন্ত তিনি বিধানসভার অন্য একটি ঘরে বসে দলের সহকর্মীদের নিয়ে কাজ চালান।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভার রুল বুক নিয়ে এই দড়িটানাটানি আসলে এক সময়ের সংসদীয় রীতিরই পাল্টা প্রভাব। অতীতে পিএসি (PAC) চেয়ারম্যান পদ বণ্টন নিয়ে রুল বুকের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল, আজ সেই রুল বুক দেখিয়েই সচিবালয় তৃণমূলকে নিয়মের পাঠ দিচ্ছে। বিধানসভা সূত্রে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠির জন্য নিয়ম ভাঙা হবে না। ফলে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় যদি জেদ ধরে বসে থাকেন, তবে শেষ পর্যন্ত তৃণমূল বিধায়কদেরই সংসদীয় কাজকর্মে সমস্যা বাড়বে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *