অভিষেকের বাড়িতে পুলিশ! টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতানোর অভিযোগ পিএ-র বিরুদ্ধে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়ের খোঁজে এবার চরম তৎপরতা দেখাল পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত কলকাতার কালীঘাটে অভিষেকের বাড়ি ছাড়াও, হুগলিতে সুমিতের নিজের বাড়ি এবং শ্রীরামপুরে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালাল পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানার পুলিশ। তবে দীর্ঘ তল্লাশিতেও সুমিতের হদিস মেলেনি।
অভিষেকের বাড়ির তালা ভাঙল পুলিশ!
পুলিশ সূত্রে খবর, সুমিতের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন শেষবার কালীঘাটে অভিষেকের বাড়ির ভেতরেই পাওয়া গিয়েছিল। সেই সূত্র ধরে শুক্রবার রাত ৩টে নাগাদ শালবনি থানার পুলিশের একটি বিশেষ দল কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় পৌঁছায়। দীর্ঘক্ষণ হাঁকডাক করার পরেও ভেতর থেকে কোনও সাড়া না পাওয়ায়, শেষমেশ পুলিশ বাইরের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তদন্তে প্রথমে সহযোগিতা না করায় পুলিশকে এই পদক্ষেপ নিতে হয় বলে জানা গেছে। তবে ততক্ষণে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে সুমিত চম্পট দিয়েছেন বলে অনুমান। শনিবার সকাল ৮টা নাগাদ পুলিশ সেখান থেকে বের হয়।
টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি:
অভিষেকের পিএ-র বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা শালবনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে শালবনি আসন থেকে তাঁকে পুনরায় দলীয় টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুমিত রায় তাঁর কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকিট বা টাকা—কোনওটাই ফেরত পাননি তিনি। এই আর্থিক প্রতারণার মামলার তদন্তেই পুলিশ এদিন হানা দেয়। এ ছাড়া ভোটের প্রচারে কুর্মি সমাজকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য এবং জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে সুমিতের বিরুদ্ধে।
শ্বশুরবাড়িতে হানা, ক্ষুব্ধ শাশুড়ি:
কালীঘাটের পর শনিবার সকালে পুলিশ পৌঁছায় শ্রীরামপুরের বিবেকানন্দ সরণিতে সুমিতের শ্বশুরবাড়িতে। ভোটের সময় থেকে সেখানে সুমিতের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। তবে তাঁর শাশুড়ি জানান, গত দু-তিন দিনের মধ্যে সুমিত সেখানে আসেননি। পুলিশের এই লাগাতার অভিযানে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি দাবি করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের হেনস্থা করা হচ্ছে এবং পরিবারের গোপনীয়তা নষ্ট করা হচ্ছে। ওদিকে সুমিতের খোঁজে তল্লাশি আরও জোরদার করেছে পুলিশ।
