অভিষেকের বাড়ি নোটিশ: ফিরহাদের ‘অজ্ঞতা’র নেপথ্যে কি তবে পুরসভার হাতবদল? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা পুরসভার নোটিস ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়!
কলকাতা পুর আইনের ৪০১ ধারায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নোটিস পাঠানোকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। খোদ কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এই নোটিসের বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞতা প্রকাশ করায় ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরসভার অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আইনি মারপ্যাঁচ ও মেয়রের অজ্ঞতা
কলকাতা পুরসভার নিয়ম অনুযায়ী, ৪০১ ধারার অধীনে কোনো নোটিস পাঠানোর ক্ষেত্রে পুর কমিশনার সম্পূর্ণ নিজস্ব ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন। এই আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আলাদা করে মেয়রের আগাম অনুমতি বা সম্মতির প্রয়োজন হয় না। ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নোটিস পাঠানোর বিষয়টি মেয়র ফিরহাদ হাকিমের না জানার পেছনে কোনো প্রশাসনিক অস্বাভাবিকতা নেই। তবে রাজনৈতিক দিক থেকে দলের দ্বিতীয় প্রধান নেতার বাড়িতে এভাবে নোটিস যাওয়া এবং তা নিয়ে মেয়রের অন্ধকারে থাকা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা কেবল একটি আইনি নোটিস পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের ওপর বড়সড় ধাক্কা হতে পারে। রাজ্যে চলমান বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অনেকেই মনে করছেন, গোটা রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থার মতো খোদ কলকাতা পুরসভার ওপর থেকেও হয়তো শাসক দলের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ শিথিল হয়ে পড়ছে। আমলাতন্ত্রের এই স্বাধীন পদক্ষেপ তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এক ঝলকে
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরসভার ওপর শাসক দলের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
কলকাতা পুর আইনের ৪০১ ধারায় তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নোটিস পাঠানো হয়েছে।
এই বিশেষ আইনি প্রক্রিয়ায় পুর কমিশনার নিজের ক্ষমতাবলে নোটিস পাঠাতে পারেন, যা মেয়রকে জানানোর বাধ্যবাধকতা নেই।
নিজের দলের শীর্ষ নেতার নোটিস পাওয়ার বিষয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম সম্পূর্ণ অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
