‘অভিষেক আমার ছেলের মতো, ভুল ক্ষমা করাই বাবার কর্তব্য!’ চরম সংঘাতের মাঝেই হঠাৎ সুর নরম কল্যাণের – এবেলা

‘অভিষেক আমার ছেলের মতো, ভুল ক্ষমা করাই বাবার কর্তব্য!’ চরম সংঘাতের মাঝেই হঠাৎ সুর নরম কল্যাণের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের চলা চরম অন্তর্দ্বন্দ্বের মাঝে এক নজিরবিহীন মোড়! দিনকয়েক আগেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আলটিমেটাম দিয়ে বলেছিলেন, “হয় আমাদের বেছে নিন, নয়তো অভিষেককে।” কিন্তু সপ্তাহের শেষেই সম্পূর্ণ ভোলবদল করলেন এই প্রবীণ নেতা। শনিবার সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক ধাক্কায় সুর নরম করে কল্যাণ বলেন, “অভিষেক আমার ছেলের মতো। ছেলের করা সব ভুল ক্ষমা করে দেওয়াই বাবার দায়িত্ব।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, কল্যাণের এই ইউ-টার্ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, সপ্তাহের শুরুতেই তিনি অভিষেকের নেতৃত্ব ও আচরণকে কাঠগড়ায় তুলে দাবি করেছিলেন, তাঁর কারণেই তৃণমূলের আজ এই ভরাডুবি ও সংকট তৈরি হয়েছে। দল ছাড়ার ইঙ্গিত পর্যন্ত দিয়ে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু শনিবারের এই ‘পিতা-পুত্র’ সমীকরণের বার্তায় বরফ গলতে শুরু করল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

বিদ্রোহী সাংসদদের তীব্র কটাক্ষ ও কংগ্রেস প্রসঙ্গে বার্তা:

দলের যে সমস্ত সাংসদ বা বিধায়করা লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের তীব্র আক্রমণ করেন কল্যাণ। তিনি বলেন, “ওরা যা খুশি করুক, শেষ পর্যন্ত তো ওদের বিজেপির আশ্রয়েই যেতে হবে। যারা নিজেদের এলাকায় যেতে পারেন না, তারা উন্নয়নের কী বোঝেন?” পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দেন, তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে কোনও ধরনের সংযুক্তিকরণ বা একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি হানার আবহেই এই মন্তব্য:

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নমনীয় অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে ভোররাতে সিআইডি (CID) তল্লাশি ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষের দাবি, ভোররাতে তদন্তকারীরা অভিষেকের বাড়িতে হানা দিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা তল্লাশি চালালেও কোনও আপত্তিকর নথি পাননি। দল এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে।

ঠিক এই চরম উত্তেজনার আবহেই কল্যাণের এই সুর নরম হওয়া দলের অন্দরে কোনও বড়সড় সমঝোতার ইঙ্গিত কিনা, তা নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *