অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা, তীব্র নিন্দায় সরব খাড়গে ও অখিলেশ, ঘনীভূত হচ্ছে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের মেঘ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
সোনারপুরের কামরাবাঁধে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার কামালগাজির কাছে হামলার শিকার হন এই প্রবীণ সাংসদ। এই ঘটনার পর জাতীয় স্তরের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব এক্স হ্যান্ডলে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এর পেছনে গভীর কোনো চক্রান্তের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
হামলার নেপথ্যে প্রশাসনিক গাফিলতি ও চক্রান্তের অভিযোগ
শনিবার সোনারপুরে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পথে কামালগাজির কাছে তাঁকে কালো পতাকা দেখানোর পাশাপাশি গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি বাইকে চড়ে এগোনোর চেষ্টা করলে সেখানেও তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলার চরম অভাব এবং পুলিশের অনুপস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তাঁর স্পষ্ট দাবি, এমন একটি সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে পুলিশের অনুপস্থিত থাকার ঘটনা একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের দিকেই ইঙ্গিত করছে। একই সুর শোনা গেছে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের গলাতেও। তিনি অভিযোগ করেছেন, একজন জনপ্রিয় বিরোধী নেতাকে ইচ্ছাকৃতভাবে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আবহ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অখিলেশ যাদব ও মল্লিকার্জুন খাড়গে উভয়েই এই হামলাকে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনের চেষ্টা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন। খাড়গে এটিকে নিপীড়নের রাজনীতি আখ্যা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অবিলম্বে সমস্ত বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। জাতীয় স্তরের নেতাদের এই সক্রিয়তা ও তীব্র প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই হামলার জল অনেক দূর গড়াবে এবং এর ফলে আগামী দিনে বিরোধী শিবির আরও একজোট হয়ে আন্দোলনের পথে নামতে পারে। একই সাথে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক হিংসার বিতর্ক আরও তীব্র রূপ ধারণ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
